গৌরনদী-আগৈলঝাড়া রাজনীতির নিষিদ্ধ জনপদ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পৌর শ্রমিক দলের কমিটি গঠন করা হয়েছে গত সোমবার। এটা পৌর শাখার প্রথম কমিটি। রাজনৈতিক রীতি অনুযায়ী নতুন কমিটিতে পদধারীরা আনন্দ-উল্লাস করবেন। অনুসারীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন। গৌরনদী পৌর শাখায় প্রথম কমিটিতে পদধারী নেতাদের ভাগ্যে এসব জোটেনি। পদ পেয়েছেন এটা চুপিসারে জানার পর অজানা আতংকে নীরব থাকতে হয়েছে তাদের।

জেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবারের মতো গৌরনদী পৌর শ্রমিক দলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্ত নিরাপত্তার কারনে পদধারীদের নাম প্রকাশ করিনি। তাহলে এতক্ষনে ওদের বসতবাড়িতে হামলা হতো। গৌরনদী ছাড়তে বাধ্য করতো আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা’।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিক দল নেতা সাইফুলের এ বক্তব্য শুধু গৌরনদী নয়, পাশের উপজেলা আগৈলঝাড়ারও বাস্তবচিত্র। এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল- ১ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহনের সুযোগ নেই। এ নিয়ম অমান্য করলে হামলার শিকার হতে হয় ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। তাদের বসতবাড়িও রেহাই পায়না। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার এ রেওয়াজ চলছে।

বরিশাল- ১ আসনে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো হচ্ছে- বিএনপি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন। জাতীয় পার্টির কমিটি থাকলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। সব দলের নেতাদের একই অভিযোগ- এখানে আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্যকোন দল রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে পারেনা। এমনকি জেলা শহরের কর্মসূচীতে গেলেও পথে হামলার শিকার হতে হয়। বিএনপি নেতারা জানান, জেলা শহরে কর্মসূচীর আগের রাতে তারা পালিয়ে আসেন।
দুই উপজেলায় ক্ষমতাসীন দল ছাড়া অন্যকোন দলের নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারছেন না- এ অভিযোগের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হচ্ছে চলতি বছরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। গৌরনদীতে ৭টি ও আগৈলঝাড়ায় ৫টি মোট ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। হুমকির মুখে বেশীরভাগ ইউনিয়নে অন্য দলের প্রার্থী মনোয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। যারা দাখিল করেছিলেন তারা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নির্বাচন হওয়া গৌরনদীর শরিকল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়া অন্যরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী গত মাসের শেষ সপ্তাহে জেলার ১০ উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচী দেয়া হয়েছিল। নানা বাধার মুখে ৮ উপজেলায় বিএনপি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচী পালন করেছে। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় কর্মসূচীর আয়োজনই করতে পারেনি। কর্মসূচী হতে পারে এমন আগাম খবরে- ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় আহত হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন আকন, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন শরিফ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আলী হোসেন শরীফ, শরিকল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জসিম উদ্দিনসহ অনেক নেতাকর্মী।
গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন প্যাদা বলেন, গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় আমরা দলীয় কর্মসূচী পালন করতে পারিনা। জেলা শহরে কর্মসূচী থাকলে সেদিন বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা চালানো হয়।
আবুল হোসেন বলেন, একমাসের মধ্যে হামলায় আহতদের মধ্যে এখনও ১৪ জন ঢাকায় চিকিৎনাধীন। হামলার ভয়ে গৌরনদী বিএনপি নেতাদের বাড়িতে ভাড়াটিয়াও থাকেনা।

উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল বলেন, গৌরনদী-আগৈলঝাড়া দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন দলকে রাজনীতি করতে দেয়া হচ্ছেনা। বাড়িতে ঢুকে বিএনপি নেতাকর্মীদর পিটিযে হাতপা ভেঙ্গে দেয়া হয়। দুই উপজেলার মধ্যে গৌরনদীর অবস্থা বেশী খারাপ।
ইসলামী আন্দোলনের গৌরনদী উপজেলা সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার চিত্র ভিন্ন। এখানে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও অংশগ্রহন করতে দেয়া হয়নি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মেহেদি হাসান রাসেল বলেন, দুই উপজেলায় তিনি বিরোধী পক্ষকে কঠোরভাবে দমন করে রেখেছে ক্ষমতাসীন দল। ইসলামী আন্দোলনের ঘরোয়া কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হয়। তবে প্রকাশ্যে কর্মসূচীতে অনুমতির ক্ষেত্রে প্রশাসন দিয়ে বাঁধাগ্রস্থ করা হয়।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ বলেন, বরিশাল-১ সংসদীয় আসন নিয়ে বিএনপি চারভাগেগ বিভক্ত। কেন্দ্রীয় নেতা জহিরউদ্দি স্বপন আকন, কুদ্দুসুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার সোবাহান ও কামরুল ইসলাম সজলের সমর্থরা প্রায়ই মারামারিতে লিপ্ত হয়। এসব ঘটনা তারা আওয়ামীলীগের ওপর চাপাচ্ছে। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় উম্মুক্ত পরিবেশে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য হয়নি দাবী করে এ আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান দেখে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীরা তাদের নিজেদের নির্বাচনী ফল বুঝে গেছেন। তাই তারা স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে গেছেন।##

৩ Comments

  1. I don’t think the title of your article matches the content lol. Just kidding, mainly because I had some doubts after reading the article.

  2. Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me?

  3. Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *