নাগরিক রিপোর্ট : বাঙ্গালী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছিন্ন অংশ মৃৎশিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে একদিকে যেমন পরিবেশ বাঁচবে তেমনি এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবনে আসবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। মৃৎশিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। বরিশালে ১৪তম মৃৎশিল্পি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উধ্যাপক ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন এসব কথা বলেন।
বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে রোববার বেলা ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয় মৃৎশিল্পিদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৫ মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মৃৎশিল্পীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত, শিল্পী ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমম্বয় পরিষদের সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ, নাট্যজন সৈয়দ দুলাল, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা, মৃৎশিল্পী বিশ্বেশর পাল, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ভানু লাল দে, বরিশাল শের- ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর সাহা ও স্থপতি মিলন মন্ডল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের মৃৎশিল্পে এখন প্রধান সমস্যা মুলধন ও প্রযুক্তি। সরকারিভাবে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প দেশকে উন্নতীর শিখরে নিযে যাবে। এজন্য বাজেটে মৃৎশিল্পের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। মৃৎশিল্পীদের আধুনিক প্রশিক্ষন দেয়া এবং বাজারজাতকরনে সরকারি উদ্যেগের দাবী জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ জড়িত থাকলেও পরিকল্পনার অভাবে এ শিল্পে নতুন কেউ জড়িত হচ্ছেনা।
এবছর আজীবন ক্যাটাগরিতে শিল্পাচার্য্য জয়নুল আবেদীন সম্মাননা পেয়েছেন বরিশালের গৈলা গ্রামের মৃৎ শিল্পী তরনী পাল। একই ক্যাটাগরিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার রাজ্যেশ্বর পালকে দেওয়া হয়েছে শিল্পী চিত্ত হালদার সম্মামনা। এছাড়াও আরও ১৩ মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা ক্রেষ্ট, বস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। মৃৎশিল্পী সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশ করেন স্থানীয় শিল্পীরা।
এর আগে শনিবার বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দু’দিন ব্যাপী মৃৎ শিল্পী সম্মেলন, মেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল চারু কলার সভাপতি আলতাফ হোসেন।
মৃৎশিল্প মেলায় নওগা ও টাঙ্গাইলের পুতুল, বরিশালের কলসকাঠী ও মহেশপুরের মৃৎপাত্র, গৈলা ও হিমানন্দকাঠীর মনসার ঘট, রাজশাহীর শখের হাড়ি, সন্দেশের ছাঁচ এবং শরিয়তপুরের মৃৎসামগ্রী নিয়ে আসেন মৃৎশিল্পীরা।
আরও সম্মননা পেলেন মৃৎশিল্পী বরিশালের সুইটি পাল, রাজশাহীর সুশান্ত কুমার পাল, ফরিদপুরের নিতাই পাল, বরিশালের রূপক পাল, গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল, পিরোজপুরে বিনোদ পাল, ফরিদপুরের কার্তিক পাল, বাকেরগঞ্জের সুমন পাল, আগৈলঝাড়ার আড়তি পাল, ঝালকাঠীর অঞ্জনা রাণী পাল, টাঙ্গাইলের শোভারানী পাল, বাকেরগঞ্জের কানন রাণী পাল, প্লাবনি ইয়াসিন।

Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you. https://www.binance.com/en-IN/register?ref=UM6SMJM3
Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!