নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে ৩০ বছর কাজ করছেন মো. ফজলু খলিফা (৪৮)। ইলিশ আড়তঘরে চাকুরী করেন তিনি। বর্তমান কর্মস্থল ‘লিয়া মৎস অড়তে’ বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় গিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন ফজলু। আড়তঘরের সামনেই মোকামের উম্মুক্ত শেড। যেখানে ডাক তুলে ইলিশ কেনাবেচা হয়। সেই উম্মুক্ত স্থানটিতেও কোলাহল নেই। ভরা মৌসুমে ইলিশ শুন্যমোকামে এভাবে অলস সময় কাটাচ্ছেন ফজলুর মতো শত শত শ্রমিক-কর্মচারী। স্থানীয় নদনদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। তাই দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান মোকাম পোর্টরোডে সরবরাহ নেই। এর বিরূপ প্রভাবে ইলিশের দাম প্রতিকেজিতে গত বছরের চেয়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশী। ইলিশের দামে বিগত বছরের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এক কেজি সাইজের ইলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে আড়াই হাজার টাকা কেজি দরে। মাঝারী সাইজের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে দ্ইু হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিনই কেজিতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ ছাড়া ইলিশের দাম কমার সম্ভবনা নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২০ জুলাই। এরপরে সাগরে যাওয়া ট্রলারগুলো এক সপ্তাহ পরে আহোরিত নিযে ইলিশ নিয়ে ফিরবে। তখন সাগরের মাছের আমদানী বাড়লে ইলিশের দাম কিছুটা কমার সম্ভবনা রয়েছে। এরপরও দাম গত বছরের তুলনায় বেশী হবে বলে ব্যবসায়ীরা আভাস দিয়েছেন।
ফজলু খলিফা তার ৩০ বছর মাছের মোকামে চাকুরীর অভিজ্ঞতায় সমকলকে বলেন, ‘আষাঢ় মাসে ইলিশের এমন আকাল আগে কোনদিন দেখিনাই’। তার দেয়া তথ্য মতে, আষাঢ় মাসে ইলিশ মৌসুম শুরু হয়। যদিও নদী-সাগরে বেশী ইলিশ পাওয়া যায় শ্রাবন-ভাদ্রে (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর)। গত কয়েকবছর আষাঢ়ে যে ইলিশ নদীতে পাওয়া গেছে এবার তার অর্ধেক নেই।
মোকাম সুত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মধ্যে গত রোববার সর্বাধিক দেড়শ মন ইলিশ আমদানী হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আমদানী হয়েছে ৫০ মন। আগেরদিন বুধবার ৬০ মন।
ইলিশ ব্যবসায়ী নাসির মিয়া জানান, চলতি মাসের এই ১৩ দিন বেশীরভাগই প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ মন ইলিশ আমদানী হচ্ছে। এতে বরিশাল নগরীর ইলিশ চাহিদাই মিটেেছন না। আমদানী কম থাকায় দামও নিয়ন্ত্রনের মধ্যে আসছেনা।
বৃহস্পতিবার মোকামে পাইকারী দর ছিল দেড় কেজি সাইজ প্রতিকেজি ২ হাজার ৬৫০ টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজন সাইজ ২ হাজার ৪৫০ টাকা এবং এক কেজি সাইজ ২ হাজার ১৫০ টাকা। সাধারন মানুষের কাছে সবচেযে বেশী চাহিদা থাকায় এলসি সাইজ (৭০০-৯০০ গ্রাম ওজন) ইলিশ প্রতিকেজির দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজন সাইজ কেজি দেড় হাজার টাকা।
ব্যবসায়ী নাসির মিয়া জানান, উল্লেখিত দাম হচ্ছে মোকামের পাইকারী দর। খুচরা বাজারে প্রতিকেজিতে আরও ১০০ থেকে দেড়শ টাকা বেশী দামে ভোক্তাদের কিনতে হয়। তিনি জানান, গতবছর এই সময়ে এলসি সাইজ ইলিশের কেজি ৮০০-৯০০ টাকার মধ্যে ছিল। কেজির ওপর সাইজের ইলিশের কেজি দেড় হাজার টাকা অতিক্রম করেনি। গতবছরের তুলনায় এবছর প্রতিকেজিতে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে ইলিশ সংকটের বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সাগরে মাছ আহোরন বন্ধ। স্থানীয় নদনদীর মাছই ভরসা। নদনদীতে ইলিশ বেশী পাওয়া যাচ্ছেন। ২০জুলাই সাগরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে পূর্নিমায় নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে মোহনায় বেশী ইলিশ পাওয়া গেছে। তখন বরিশাল মোকামেও আমদানী বেড়েছিল।##

Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!
I don’t think the title of your article matches the content lol. Just kidding, mainly because I had some doubts after reading the article.