নাগরিক রিপোর্ট:
দেশের ১০ জেলা ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে রয়েছে ৩ জেলা। এগুলো হচ্ছে বরিশাল পটুয়াখালী এবং পিরোজপুর। এ বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩জন সহ আক্রান্ত ২৪৭ জন। আইইডিসিআর এর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই জেলাগুলোকে উচ্চ ঝুকির তালিকায় এনে বিশেষ ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢিলেঢালা কর্মকান্ড চলছে বরিশাল সহ বিভাগের বাকি দুই জেলায়। বিশেষ করে বিসিসি এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম যথাযথ না থাকায় ঝুকি বেড়েই চলছে। এ নিয়ে বরিশালে জনমনে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল আজকের পত্রিকাকে বলেন, উচ্চু ঝুকির কারনে মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগের ৪১ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ডেঙ্গু ইস্যুতে সভা হয়েছে। সভায় তাদের ডেঙ্গুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রোগী আসলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা এবং তাদের সেবা প্রদানে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আইইডিসিআর যেসব পরামর্শ দিয়েছে আমাদের সেসব ব্যবস্থা নেয়া আছে।
তিনি বলেন, বরিশাল নগরে লার্ভা আছে কি না তা সনাক্তে পরীক্ষা করা এখন জরুরী নয়। যেহেতু রোগী আসছে সেহেতু নগরে লার্ভা নেই সেটি স্বীকার করা যাবে না। এজন্য মশা নিধন করার উপরেই সিটিকরপোরেশন সহ সর্বত্র জোর দিতে হবে।
জানা গেছে, উচ্চু ঝুকির জেলেগুলোতে যেসব বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নির্দেশনা দিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাসপাতালে ডেঙ্গুর শয্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত কিট এর ব্যবস্থা, শতভাগ স্যালাইন এবং ওষুধ সরবরাহ এবং সিটিকরপোরেশন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমে জোর দেয়া। স্বাস্থ বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা মনে করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় মশক নিধনে ঢিলেঢালা ভাবের কারনে নগরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলার সাধারন সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, তার বাসা কাউনিয়া প্রধান সড়ক এলাকায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ। কিন্তু করপোরশেন থেকে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশা নিধনে ছিটেফোটাও উদ্যোগ নেই নগরে। এখানে এডিশ মশার লার্ভা আছে কি না তাই তো চিহিৃত হয়নি। করপোরেশনের বর্তমান মেয়রের শেষ মুহুর্তে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বিসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: খন্দকার মঞ্জুরুল ইমাম শুভ্র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোন নির্দেশনা নেই। এবছর লার্ভা সনাক্তে কোন টিমও নগরে আসেনি। যেকারনে নগরে এডিস মশার লার্ভা আছে কি না তা বোঝার কোন উপায় নেই। মুলত সিটি করপোরেশনের ৫টি টিম মশক নিধনে কাজ করছে।
এদিকে শেবাচিম হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের তথ্যপ্রদানকারী কর্মকর্তা জাকারিয়া স্বপন বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ৩০০টি। তবে স্যালাইন চাহিদার অর্ধেক আছে। প্যারাসিটামল আছে পর্যাপ্ত। গত ২৪ ঘন্টায় শেবাচিম হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে ৪২জন। বিভাগে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে বরিশালের গৌরনদীর শাহানাজ (৬৫), ভোলার লালমোহনের ফরিদা (৩৭) এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শাহ আলমের (৭০)। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪০জন বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা: সাইফুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। স্যালাইনের কিছুটা সংকট থাকলেও অন্য সব উদ্যোগ রয়েছে।
এদিকে উচ্চ ঝুকিতে থাকা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যমতে, সেখানে ২৪ বেডের একটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড আছে। কিন্তু রোগীর চাপে অনেকের ঠাই হয় বারান্দায়। দৈনিক ৪০/৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে এ হাসপাতালে। গত ২৪ ঘন্টায় এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১জন। তবে ওষুধ ও স্যালাইনের ঘাটতি নেই বলে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
ডেঙ্গুতে উচ্চ ঝুকির অপর জেলা পিরোজপুরে সবচেয়ে বেশি রোগী নেছারাবাদ ও সদর উপজেলায়। সেখানে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me?