বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের বিচার হিমাগারে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গ্রাউন্ড ফ্লোরে জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের কনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে মারছিলেন। ওই সময়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন দুই পক্ষ। গত মাসের ২ জুলাইয়ের ওই ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃস্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভুইয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্য বিশিস্ট একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আলোচিত ওই ঘটনার প্রায় দেড় মাস হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। বরং গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির আহবায়ক এবং ১নং সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে হামলা ও সংঘর্ষের এ ঘটনা হিমাগারে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ববি রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রকাশ্যে যেটি ঘটেছিল তা অনেক বড় ঘটনা। শিক্ষিত কর্মকর্তারা মারামারিতে জড়িয়েছিলেন। এটি ন্যাক্কারজনক। তদন্ত হয়ে গেলে একটি ফলাফল তো আসতোই। কিন্তু অস্থিরতার কারনে প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে হুট করে গতকাল ২জন পদত্যাগ করলেন। এখন উপাচার্য কমিটি পূনর্গঠন করলে যারা দায়িত্ব পাবেন তারা কাজ করবেন।

জানা গেছে, গত ২ জুলাই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি চলাকালে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর কর্মকর্তারা হামলা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। এতে উভয়পক্ষে ৯জন আহত হন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ বলেন, তিনি শুনেছেন যে তদন্ত কমিটির আহবায়ক সহ ২জন পদত্যাগ করেছেন। কিন্তৃ কেন করলো তা এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তারা চেয়েছিলেন ওই ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য উদঘটন হোক।

অপরদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবু হাসান বলেন, গত ২ জুলাই সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে কর্মসুচী পালনকালে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালায়। ওই ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি নিজে উপাচার্যকে লিখিত আবেদন করেন। ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক, সদস্য সচিবও লিখিতভাবে বিচার চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ওই সময়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার কথা। প্রায় দেড় মাস হয়েছে মার খেলাম, এখনও বিচার পাইনি। তিনি আরও বলেন, দেড়মাস পরে কেন আহবায়ক সহ ২জন পদত্যাগ কেন করলেন তা জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ববির গনিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: সফিউল আলমকে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির অপর সদস্য ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: শাখাওয়াত হোসাইন পদত্যাগের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু কেন পদত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে পরে বলবেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.