নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করেছে। কয়েকদিন আগে সদর উপজেলার চরমোনাই থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাতে এক সিটি কাউন্সিলরের ভবনের ভাড়াটিয়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আড়াই হাজার পিস ইয়াবা। এছাড়া প্রতিদিনই সীমিত পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেফতার অভিযান চলছে। এরপরও নগরীতে ইয়াবা ব্যবসা মোটেই কমছে না। শনিবার মেট্রোপলিটন পুলিশ অবশ্য স্বীকার করেছে, উপযুক্ত প্রমানের অভাবে মাদকে সম্পৃক্ত গডফাদাররা অধরাই থাকছে।
অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সঙ্গে গ্রেফতারকৃতরা মুলত খুচরা বিক্রেতা কিম্বা বাহক মাত্র। এ ব্যবসার মুল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোয়ার বাইরে। মাদক ব্যবসার গডফাদারদের মধ্যে নগরীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম শোনা যাচ্ছে মাধ্যমে।
ইয়াবার বড় চালান উদ্ধারের পর নিয়ামানুযায়ী শনিবার সকালে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হয় শুক্রবার রাতে আড়াই হাজার পিস উদ্ধারের বিষয় নিয়ে। প্রতিবারের মতো এবারও পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মাদক ব্যবসার নেপথ্য থাকা গডফাদারদের চিহিৃত করা হয়েছে। শিগগিরিই তাদের মুলোৎপাটন করা হবে।
প্রকৃত গডফাদাররা ধরা পড়ছেন না কেন জানতে চাইলে পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমরাও জানি এ ব্যবসার মুল গডফাদার কারা। উপযুক্ত প্রমান হাতে না পাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছেনা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীল লেচুশাহ সড়কে ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদ আহম্মেদ মান্নার মালিকানাধীন ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আড়াই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় গ্রেফতার করা হয় ভাড়াটিয়া আসমা আক্তার রুবিনা ও তার সহযোগী সুমন মৃধা।
পুলিশ জানিয়েছে, আসমার স্বামী রিফাতুল ইসলাম রন্টি চিহিৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলে আসমা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। আসমা ও সুমন মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলার আসামী। পুলিশের দাবী ভবন মালিক কাউন্সিলর মান্নার সহযোগীতায় আসমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে দেড়মাস আগে ওই ভবন ভাড়া নেয়। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় বাড়িওয়ালার দায় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০১৯-০৯-১৫
