সৈয়দ জুয়েল ॥ প্রাচীন মিশরীয়দের কাছে পিঁয়াজ ছিল মহামূল্যবান এক বস্তু। তারা বিশ্বাস করতো মৃত্যুর পরের জীবনের জন্যও পিঁয়াজ অতি গুরুত্বপূর্ন। মজার বিষয় রাজা রামেসিসের মৃত্যুর পরে তার সমাধি মমি করে রাখা হয়েছিল। যখন তার কবরটি আবিস্কৃত হয়েছিল, তখন দেখা গিয়েছিল তার দু চোখের কোটরে দুটি পিঁয়াজ রাখা।
মিশরীরয়রা পিয়াজের গুরুত্ব অনেক আগে থেকেই টের পেয়েছিল। আর আমরা পিয়াজের গুরুত্ব টের পেলাম এর উর্ধ্বগতিতে। লাগামহীন ভাবে বাড়ছে পিঁয়াজের দাম। যা এখন দরিদ্র মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাহিরে। গত রোজার আগেও যখন পিঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কথা ছিল, তখন কেজি প্রতি এর দাম ছিল ২৫ টাকার মত। হঠাৎ করে তা বেড়ে ৪৫ টাকায় উঠে যায়। আর এখন যার দাম ৭০ টাকার উপরে।
দেশে প্রায় ২৩ লক্ষ টন চাহিদার ১৬.৫ লক্ষ টন দেশেই উৎপাদন হয়ে থাকে, বাকীটা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ভারতের হিলি স্থল বন্দর থেকে বর্তমানে কেজি প্রতি পিয়াজ ১৮ থেকে ২০ টাকায় বাংলাদেশে ঢুকে। সেই পিঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি প্রতি! এর মাঝে যে বড় একদল সুবিধাবাদীর অশুভ চক্র মুনাফা পকেটে পুড়ে, তা অনুমেয়। একটু হিসেব করে দেখা যায়, ২৫ টাকার পিঁয়াজ ৬০-৭০ টাকাও যদি বিক্রি করে এ চক্রটি, তারা লুটে নিচ্ছে প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার মত। অর্থাৎ মাস শেষে ২০০ কোটি টাকার মত। আর এটা অভ্যাহত থাকলে কত হবে তা ভাবা যায় না।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় দেশের পিঁয়াজের বৃহৎ পাইকারী বাজার শ্যামবাজার। এখানে ৪০ টাকায় কেজি প্রতি বিক্রি হয় পিয়াজ। খুচরা বাজারে তা কিভাবে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় উঠলো? বাজার তদারকির দায়িত্বটা যাদের কাঁধে বর্তায় তারা কি আদৌ তদারকি ঠিকঠাকভাবে করছেন, না শর্ষের ভিতরেই ভূত!
ক্যাসিনোর জুয়াড়িদের মত পিয়াজের বাজারও সিন্ডিকেটে দখল হয়ে আছে। ক্যাসিনোতে যে রকম জিরো টলারেন্স নীতিতে প্রশাসন কাজ করছে, সাধারন মানুষের দাবী সেরকম একটা শুদ্ধি অভিযান পিয়াজের বাজারে দেয়া দরকার। যাতে করে অতিরিক্ত মুনাফালোভী কুশীলবদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়। পিঁয়াজের খোসা ছাড়াতে চোখে জল এসে যায় যাক। কিন্তু নিম্নবিত্ত অসহায় মানুষগুলিকে যেন আর পিঁয়াজ ক্রয় করতে গিয়ে চোখের জল না ফেলতে হয় সেদিকে নজর দেয়া দরকার।
২০১৯-০৯-২৪
