পরীক্ষায় জালিয়াতি: আরও ১জন বরখাস্ত, হোতারা অধরা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় খাতায় জালিয়াতি করে ১৮ শিক্ষার্থী উত্তীর্ন হওয়ার ঘটনায় বুধবার পরীক্ষা শাখার এক অফিস সহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে কর্মচারী পর্যায়ের ২জনকে বরখাস্ত করলো বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যদিও জালিয়াত চক্রের মূল হোতারা এখনও ধরাছোয়ার বাহিরে থাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম-‘পরীক্ষার খাতা গ্রহনে দায়িত্বশীলদের তদারকির অভাব’। জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে এর খাতা পৌছালে তা তদারকি করতেন না পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের দায়িত্বশীলরা। যেকারনে দীর্ঘদিন ধরে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি চলে এসেছে।
বুধবার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মচারী হচ্ছে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা শাখার অফিস সহকারী মনিরুল ইসলাম। শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস এ তথ্যের সত্য স্বীকার করে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অফিস সহকারী মনিরুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে মনিরকে পরীক্ষার খাতা বন্টন শাখায় দেখা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রসঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, তদন্ত কমিটি তদন্তে উল্লেখ করেছে যে বোর্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট। একই লোক একাধিক পদে বিভিন্ন শাখা দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষাবোর্ডের কার্যক্রম তদারকিরও অভাব ছিল।
গত ১৭ জুলাই এইচএসসি’র ফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু ওই সময়ে জালিয়াতির অভিযোগে ১৮জন শিক্ষার্থীর ফলাপল প্রকাশ করা হয়নি। বিজ্ঞান বিভাগের ওই ১৮ পরীক্ষার্থীর ফল কেন প্রকাশিত হয়নি তার কারন খুজতে গিয়ে পাওয়া যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। উচ্চতর গণিত প্রথম পত্র বিষয়ে প্রধান পরীক্ষকের তৈরী উত্তরপত্রের সঙ্গে ১৮ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মিলে যাওয়ায় তাদের ফলাফল অপ্রকাশিত রাখা হয়। এ ঘটনায় গত আগস্টে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বরখাস্ত করা হয় বোর্ডের উচ্চমান সহকারী গোবিন্দ চন্দ্র পালকে। এমনকি বোর্ডের পরীক্ষানিয়ন্ত্রক বরিশাল বিমানবন্দর থানায় মামলাও দায়ের করেছেন। ওই মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদান্তনাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় উচ্চতর গনিতের প্রধান পরীক্ষাক মো. শহিদুল ইসলাম বোর্ডে অভিযোগ করেন যে, ১৮ জনের পরীক্ষায় একই ফলাফল আসা সন্দেহজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। ওই ১৮ শিক্ষার্থীর উচ্চতর গনিত পরীক্ষায় একই ফলাফল আসার বিষয়টিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিলে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি ধরা পড়ে।
এদিকে শিক্ষবোর্ড সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে যে খাতা আসতো তা বুঝিয়ে নেয়ার জন্য অধিকাংশ সময়ে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন না। এমনকি যে রুমে খাতা বাছাই হতো সেখানে সিসি ক্যামেরাও ছিল না। এসব ত্রুটির সুযোগ নিয়ে জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে বোর্ডের মধ্যেই পরীক্ষার খাতা জালিয়াতি করে পরীক্ষার্থীদের মোটা অংকের মাধ্যমে উত্তীর্ন করে দিত। তবে জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার দীর্ঘ সময় পাড় হলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি বলে সুত্র জানায়। যেকারনে ওই জালিয়াতের মুল হোতারা এখনও রয়েছে অধরা এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের একাধিক সুত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *