যেভাবে ফাহাদ হত্যা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যাকান্ডের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। শেরেবাংলা হলের একাধিক কক্ষে নিয়ে মারধরের কারণেই আবরার ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্র ইশতিয়াক মুন্না এ হত্যায় নির্দেশনা দিয়েছেন।
মুন্না নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সাংবাদিকদের জানান, বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শনাক্ত ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে। এ ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র বলছে, ফাহাদ শনিবার (৫ অক্টোবর) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে। তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে ফাহাদকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন। এরা প্রত্যেকে ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দুইজন রবিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফাহাদকে ডেকে ২০১১নং কক্ষে নেন।
ওই কক্ষে ফাহাদের কাছ থেকে মুঠোফোন নেওয়া হয়। এসময় তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু হয়। একপর্যায়ে ফাহাদ জ্ঞান হারালে কোলে করে মুন্নার কক্ষে (২০০৫নং) নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় নিয়ে যান তারা। পরে হল প্রভোস্ট এবং চিকিৎসককে সংবাদ দেওয়া হয়। চিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে ফাহাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তখনই বুয়েট কর্তৃপক্ষ পুলিশে সংবাদ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *