মুক্তিযুদ্ধের চার খলিফার শাহজাহান সিরাজের অবস্থা সংকটাপন্ন

Spread the love

মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ শাজাহান সিরাজ ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল গণি মিয়া এবং মাতার নাম রাহিমা খাতুন। বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার বেতডোবাতে। শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী রাজনীতির ‘চার খলিফা’র একজন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তৈরির পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ।

শাজাহান সিরাজ একজন তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে ষাটের দশকে বঙ্গের আলীগড় খ্যাত টাঙ্গাইলের করটিয়ার সরকারি সা’দত কলেজের ছাত্র সংসদের দুবার ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দক্ষ, জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ শাজাহান সিরাজ জাসদ ও বিএনপির প্রার্থী হয়ে ১৯৭৯, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ৫ বার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপি সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাধীনতার পর শাজাহান সিরাজ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি জাসদ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করে ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১/১১ সময়ে দুর্নীতির দায়ে শাজাহান সিরাজের জেল হয়।

শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি কালিহাতী উপজেলা সদরে কালিহাতী কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। শাজাহান সিরাজের সহধর্মিণী রাবেয়া সিরাজ। এক ছেলে রাজিব সিরাজ শুভ এবং এক মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

কালিহাতী কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা কলেজের শিক্ষকবৃন্দ বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠাতাকে দেখতে ঢাকার বাসায় গিয়েছিলাম। ওনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।’

শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শক্রমে তাকে বাসায় আনা হয়েছে এবং বাসাতেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার জন্য আমি কালিহাতীবাসীসহ দেশের সবার কাছে দোয়া চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *