নাগরিক রিপোর্ট : ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল নগরীর মধ্যে থাকা চারলেনের সাড়ে ৩ কিলোমিটার অংশ নিয়ে মালিকানা সংকট দেখা দিয়েছে। এ অংশটুকুর দায়িত্ব নিয়ে সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মধ্যে ধাক্কাধাক্কি চলছে বছরের পর বছর। ফলে সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সাড়ে ৩ কিলোমিটারের চারলেন সড়ক। একই কারনে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এমনকি চারলেন সড়ক নিয়ে বিপাকে আছেন থ্রী-হুইলার যানবহন চালক ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ১১ কিলোমিটার অংশ বয়ে গেছে নগরীর মধ্যখান দিয়ে। এ মহাসড়ক সওজের আওতাধীন। নগরীর কাশীপুর সুরভী পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে আলেকান্দা আমতলার মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের সাড়ে ৩ কিলোমিটার অংশের দুপাশ বর্ধিত করে চারলেনে উন্নীত করেন সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ। ২০১২ সালের দিকে এ কাজ সম্পন্ন হয়। তারপর থেকেই চারলেনের মালিকানা নিয়ে বিসিসি ও সওজের মধ্যে অপ্রকাশ্যে বিরোধ চলছে।
সওজের দাবী, তাদের অধিগ্রহনকৃত জমিতে অনুমতি ছাড়াই বিসিসি চারলেন সড়ক করেছে। এ চারলেন অংশ দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের নয়।
সওজের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনুমতি ছাড়াই বিসিসি আমাদের জমিতে চারলেন সড়ক করেছে। এরপর থেকে তারা সড়কটি সংস্কারও করছেন না। এমনকি সংস্কারে তাদের কোন অক্ষমতা থাকলেও সেটাও আমাদের জানায়নি’। নির্বাহী প্রকৌশলী স্পষ্টই বলেন, যেহেতু আমরা বর্ধিত অংশ করিনি, এটার কোন দায়-দায়িত্বও আমাদের নেই। যারা নির্মান করেছেন তারাই সংস্কার করবে।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন মহাসড়কের চারলেন অংশের মালিকানার জটিলতা প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা খুব শিগগিরিই সওজের সঙ্গে আলোচনায় যাবেন। নগরবাসীর স্বার্থে সওজের জমিতে চারলেন সড়ক করেছেন তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণ। নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নগরীর মধ্যে থাকা ১১ কিলোমিটার মহাসড়কের মালিকানা বিসিসিতে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হবে সওজকে। তিনি দাবী করেন, বিসিসি অর্থ বরাদ্দ পেলেই মহাসড়কের চারলেন অংশও সংস্কার করা হবে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বিসিসির উন্নয়ন পরিকল্পনায় চারলেন সড়ক সংস্কার আপাতত রাখা হয়নি।
এদিকে সাড়ে ৩ কিলোমিাটার চারলেন সড়ক ২০১২ সালে নির্মানের পর সংস্কার না করায় অগণিত খানাখন্দকে এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চারলেনের শুরুর স্থান সুরভী পাম্পের সামনে, বৈদ্যপাড়া ও কলেজ রোড সংযোগ মুখ, টেক্সটাইল কলেজের সামনেসহ অংসংখ্য জায়গায় বড় বড় খাদের সৃস্টি হয়েছে। এছাড়া নির্মান কাজ যথযথ না হওয়ায় চারলেনের পুরো অংশই এবড়ো-থেবরো। মহাসড়কের নিরাপত্তার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ থ্রি-হুইলার যানবহনগুলো বর্ধিত অংশ দিয়ে চলাচলের নিয়ম করে দিয়েছেন।
ট্রাফিক বিভাগের মাঠ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্ধিত অংশটুকু যান চলাচলের অনুপযোগী। থ্রি-হুইলার চালকরা মামলার ভয়ে সেখান থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা মাঝে মাঝে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মুল মহাসড়কে উঠে আসে। ফলে প্রায়ই বাস-ট্রাকের সঙ্গে থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বৈদ্যপাড়া সড়কের মুখে বিআরটিসির ডাবল ডেকারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন টেম্পুযাত্রী নিহত হন।
টেম্পু মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, নগরীর মধ্যে মহাসড়কের বর্ধিত অংশ যান চলাচলের অনুপযোগী। সেটি সংস্কারের জন্য জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় একাধিকবার বলেছি’।
মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. খাইরুল আলম বলেন, নগরীর মধ্যে মহাসড়কের বর্ধিত অংশ সংস্কার করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দেয়া হচ্ছে।##
২০১৯-১১-০২
