নাগরিক
রিপোর্ট ॥
বেহাল হয়ে
পড়েছে বরিশাল
নগরীর সবগুলো
সড়ক। দীর্ঘবছর
যাবত সংস্কার
না করায়
খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়ে সড়কের এ
হাল হয়েছে।
এর বিপরীতে
নগরীর হোল্ডিং
ট্যাক্স বৃদ্ধি
করা হয়েছে
দুই থেকে
তিনগুন বেশী।
নগরীর নাগরিক
ও সামাজিক
সংগঠনগুলো ছোটখাট নানা ইস্যু নিয়ে
আন্দোলন করলেও
এসব বিষয়
নিয়ে রহস্যজনককারনে
চুপচাপ রয়েছেন।
সিটি করপোরেশণের
(বিসিসি) নাগরিক
স্বার্থ সংশ্লিষ্ট
নানা ব্যার্থতা
নিয়েও নীরব
ভূমিকায় এ
সংগঠগুলো। রাজনৈতিক দলগুলোরও কোন ভূমিকা
নেই। ফলে
ক্ষোভ বিরাজ
করছে নগরবাসীর
মধ্যে।
অবশেষে সড়ক
সংস্কারের দাবীতে সরব হয়েছে বামপন্থী
রাজনৈতিক দল
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
তারা সড়ক
সংস্কার ও
হোল্ডিং ট্যা´
কমানোর দাবীসহ
৬স দফা
দাবী নিয়ে
গতকাল শুক্রবার
থেকে দাবীপক্ষ
পালন কর্মসূচী
শুরু করেছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির জেলা
সদস্য সচিব
গত সিটি
নির্বাচনে আলোচিত মেয়র প্রার্থী ডা.
মনিষা চক্রবর্তী।
শুক্রবার দুপুরে
বাসদ কার্যালয়ে
অনুষ্ঠিত এক
সাংবাদিক সম্মেলনে
ডা. মণিষা
চক্রবর্তী বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বর
পর্যন্ত নগরীর
ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে
বিক্ষোভ মিছিল,
পথসভা, গণসংযোগ
এবং মেয়র
ও স্থানীয়
কাউন্সিলরদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা
হবে। ১
ডিসেম্বর নগরীর
অশ্বিনী কুমাল
হল প্রাঙ্গনে
সমাবেশ করে
স্মারকলিপি দেবেন সিটি মেয়রকে।
তাদের ৬
দফা দাবীগুলো
হচ্ছে- হোল্ডিং
ট্যাক্স কমিয়ে
নাগরিক সুবিধা
বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট-ড্রেন সংস্কার,
জেলখাল-সাগরদি
খাল-নবগ্রাম
খাল-আমানতগঞ্জ
খালসহ নগরীর
সকল খাল
সংস্কার, মাদক-জুয়া-ইভটিজিং
বন্ধে কার্যকর
ব্যবস্থা গ্রহন,
সুষ্ঠু বিনোদনের
জন্য এলাকায়
এলাকায় খেলার
মাঠ-পাঠাগার
নির্মাণ এবং
বিকল্প কর্মসংস্থান
ছাড়া রিক্সা,
অটোরিক্সা, হকার উচ্ছেদ বন্ধ করা।
ডা. মণিষা
বলেন, নগরীর
অনেক সড়ক
এখন মাছচাষের
উপযোগী হয়েছে।
লোকদেখানো দু-একটি সড়ক সংস্কার
করা হলেও
তার গতি
অত্যন্ত মন্থর।
সিটি কর্পোরেশনের
আওতাধীন প্রায়
৮০ভাগ রাস্তাই
এখন চলাচলের
অনুপোযোগী। খালগুলো দখলমুক্ত এবং পরিস্কার
পরিচ্ছন্ন না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই
নগরীতে জলাবদ্ধতার
সৃষ্টি হচ্ছে।
সেগুলো এখন
মশা উৎপাদনের
কারখানায় পরিনত
হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই
অনুষ্ঠিত বিসিসির
চতুর্থ নির্বাচনে
জয়ী মেয়র
সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ একই বছরের
২৪ অক্টোবর
দায়িত্ব গ্রহন
করেন। এসময়ের
মধ্যে শুধুমাত্র
নগরীর নথুল্লাবাদ
কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে হাসপাতাল
রোড হয়ে
সদর রোড-বাংলাবাজার সড়ক
পর্যন্ত প্রায়
১০ কিলোমিটার
সংস্কার করা
হয়েছে। বাকি
সবগুলো সড়কেই
এখন যান
চলাচলের অনুপুযোগী।
এ বিষয়ে
নগর ভবন
থেকে বার
বার বলা
হচ্ছে- সড়ক
সংস্কারে সহ¯্রাধিক কোটি
টাকার একটি
প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে
অনুমোদনের অপেক্ষায়। সেটি অনুমোদিত হলেই
সড়ক সংস্কার
শুরু হবে।
এব্যপারে বরিশাল
সিটি করপোরেশনের
প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন বলেন, ঘূর্নিঝড়
বুলবুলে রাস্তায়
পানি জমে
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর আগেও অনেক
সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ
ছিল। মন্ত্রনালয়ে
ক্ষতিগ্রস্থ সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নেতৃত্বে নগরীর ৪৩টি
সড়কের সংস্কারের
জন্য থোক
বরাদ্ধ চাওয়া
হয়েছে। তিনি
দাবী করেন,
রেকর্ড পরিমান
বৃস্টির কারনে
রাস্তা ক্ষতি
হয়েছে। দ্রত
এসব সড়ক
সংস্কারে কাজ
শুরু হবে।
২০১৯-১১-১৫
