বরিশালে প্রতিক্রিয়া: বিএনপির নেতৃত্বে আসতে তৎপর ছাত্রনেতারা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে ছাত্রদলের সাবেক নেতারা হঠাৎ করে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সভাপতি ও সম্পাদক পদের ১৫ থেকে ২০জন নেতা রোববার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, আন্দোলন বেগবান করতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। অবশ্য এই বৈঠক নিয়ে বিএনপি নেতাদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। দলের দায়িত্বশীল একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলে নেতৃত্বে আসতেই ছাত্রনেতারা একাট্টা হয়ে নানা পরিকল্পনা করছেন।
রোববার নগরীতে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের একাংশ গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আক্তার হোসেন মেবুল, মীর জাহিদুল কবির, আ ন ম সাইফুল ইসলাম আজিম, পারভেজ আকন বিপ্লব, জিএম আতায়ে রাব্বি, মাকসুদ আলম, খন্দকার আবুল হাসান লিমন, এ এইচ এম তছলিম উদ্দিন, মশিউর রহমান মঞ্জুসহ বেশ কয়েকজন। এরা প্রত্যেকে এক সময় বরিশাল জেলা কিংবা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি অথবা সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
সাবেক এই ছাত্রনেতারা একত্রে কি উদ্দেশ্যে বসেছেন এমনটা জানতে গিয়ে নানা তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব বলেন, তারা ঐক্যবব্ধ হচ্ছেন। অবহেলিত ছাত্রনেতারা এক হতে চান। যেকারনে রোববার সকলে জনৈক আইনজীবীর কার্যালয়ে বসেছেন। তারা ১৫ থেকে ২০জন ছিলেন। এমন বৈঠকের কারন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন বেগবান করা তাদের টার্গেট। কেন মাঠে কর্মসুচী দিচ্ছেন না এ প্রসঙ্গে বিপ্লব বলেন, তারা কর্মসুচী দেয়ার কথা ভাবছেন। নেতৃত্বে আসতে চান কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউন্সিল আসলে তারা যৌক্তিক দাবী তুলবেন।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আতায়ে রাব্বি বলেন, যারা সক্রিয় নয় তাদের বেগবান করার চেস্টা করছেন। চলমান কর্মসুচীতেও তারা থাকছেন। তিনি বলেন, সম্মেলন হলে তাদের তো চাওয়া পাওয়া থাকবেই। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, ৩ মাস পরে আবার তারা একত্রে বসেছেন। আন্দোলন সংগ্রাম বেগবান করাই তাদের উদ্দেশ্য।
অবশ্য রোববারের ওই বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। আরমান সিকদার নুন্না নামে এক নেতা মন্তব্য করেন, ‘এরা হলেন জিয়ার সৈনিক। এদের দেখে ভয়ে কাতর সব কাউয়া সৈনিক।’ কেউ কেউ আবার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ অবশ্য সাবেক ছাত্রনেতাদের বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এক সময় তিনিও ছাত্ররাজনীতি করেছেন। পদ না পেয়ে সাবেক এসব ছাত্রনেতাদের মত ঘরে ওঠেননি। তারা(সাবেক ছাত্রনেতা) কোন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না। এখন কমিটিতে বড় পদ পেতে চক্রান্তে লিপ্ত। এ নিয়ে তৃনমুলের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা জানান, বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলে তাদের প্রধান টার্গেট মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক পদে ছাত্রনেতাদের আনা। ওই পদে প্রার্থী হতে তৎপর কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির। আর জেলা বিএনপিতে পদ প্রত্যাশী পারভেজ আকন বিপ্লব। মুলত এ কারনেই সাবেক ছাত্রনেতারা বিএনপির শীর্ষ এক নেতার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।
এব্যাপারে বরিশাল মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, তিনি মনে করেন লুকচুরি না করে সাবেক ছাত্রনেতাদের রাজ পথে থাকা উচিত। উদ্দেশ্য ছাড়া তো কোন বৈঠক হয় না। ওনাদের এভাবে আড়ালে বৈঠক না করে তৃনমুল নেতৃবৃন্দ যারা রাজপথে ছিল তাদের সাথে মাঠে থাকা দরকার। ঘরে বসে, ফেসবুকে প্রচার করে রাজনীতি হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন বিএনপি নেতা জিয়া সিকদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *