ট্রিপল মার্ডার: তিন ইস্যু নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: পরস্পরের ঘনিষ্ট আত্মীয় তিনজন শুক্রবার রাতে একই ছাদের নিচে ঘুমিয়ে ছিলেন। শনিবার সকালে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেলো তিন জায়গায়। অজ্ঞাত খুনীরা হত্যার পর দুটি লাশ ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবং একজনের লাশ বাড়ির পুকুরে ফেলে রেখে যায়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়িতে। পুলিশ জাকির হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধ, পরকিয়া এবং ডাকাতি এ তিন ইস্যু নিয়ে হত্যা ঘটনার ক্লু তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহত তিনজন হলেন- হাফেজ আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম (৭৫), ভগ্নিপতি সাবেক স্কুল শিক্ষক সফিকুল আলম (৬৫) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফ (২২)। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম র বলেন, ঘটনার ধরন দেখে মনে হচ্ছে পুরোটাই পূর্ব পরিকল্পিত। নিহতদের মুখ থেকে রক্ত বেরোনোর কারনে ধারনা করা হচ্ছে তাদের বালিশ চাঁপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, হাফেজ আব্দুর রব দীর্ঘবছর যাবত কুয়েত প্রবাসী। সালিয়াবাকপুর গ্রামে একতলা পাকা ভবনে শুক্রবার রাতে ছিলেন তার স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু, মা মরিয়ম বেগম, দুই শিশু, বোনের ছেলে ইউসুফ, ভাইয়ের মেয়ে কলেজছাত্রী আছিয়া আক্তার এবং স্বরূপকাঠী থেকে বেড়াতে আসা ভগ্নিপতি জামাতা সফিকুল আলম। তারা শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।
কলেজছাত্রী আছিয়া আক্তার জানান, ফজরের আজানের পর ঘুম থেকে উঠে পাশে দাদী মরিয়ম বেগমকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি করেন। তাকে মৃত অবস্থায় ভবনের বারান্দায় পাওয়া যায়। আছিয়া বলেন, দাদীকে উদ্ধারের পর বাড়ির সদস্যরা ঘটনা জানাতে সফিকুল আলমের কক্ষে গিয়ে তাকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বাড়ির পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইউসুফের লাশ। ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ থাকলেও ছাদের চিলে কোঠার দরজা খোলা থাকায় ধারনা করা হচ্ছে দৃর্বৃত্তরা এখান থেকে ভবনের মধ্যে আসা যাওয়া করেছে।
গৃহকর্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু জানান, তার কক্ষের ষ্টীল আলমিরা থেকে কিছু স্বর্ণলংকার ও তিনটি মোবাইল সেট নিয়ে গেছে দৃর্বৃত্তরা। তবে হত্যা ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে ডাকাতির ঘটনা সাজানো হয়েছে কি-না পুলিশ সেটিও খতিয়ে দেখছে। বরিশাল জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, আটক জাকির ঝারফুক এর সাথে সম্পৃক্ত। তিনি প্রায়সই ওই বাড়িতে আসতেন। শুক্রবারও একটি মোবাইল ফোন চুরি যাওয়াকে কেন্দ্র করে জাকির প্রবাসীর বাড়িতে এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে আটক করা হয়েছে।
এব্যপারে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল বলেন, পুলিশের সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন ইউনিট বাড়ির সদস্যদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *