প্রসবদেনায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শিশু ছাত্রী

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী (১২) প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছে। ১০ মাসের গর্ভবতি এ শিশুটি এ সপ্তহের মধ্যেই মা হতে যাচ্ছে। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী- দুই লম্পটের লালসার শিকার সে। জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বাবুল হোসেন এবং শিশুটির একই বাড়ির চাচা সম্পর্কের জুয়েল ধারাবাহিক লালসার শিকার সে। ধর্ষন মামলায় জুয়েল কারাগারে রয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল গ্রামের একটি হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান এ শিশুটি। সে শেবাচিম হাসপাতালের তৃতীয় তলায় প্রসুতি বিভাগে রয়েছে। তার চিকিৎসা ব্যয়সহ যাবতীয় দেখভাল করছে ‘ভোলা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব’ নামক একটি সংগঠন।
এ সংগঠনের সদস্য কলেজছাত্র সুজন শুক্রবার জানান, চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসব হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। এ নিয়ে শনিবার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ড সভা করে সিজারিয়ান অপারেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
প্রসুতি বিভাগের সেবিকা শাহনাজ পারভীন জানান, শিশুটি শ্বাসকষ্ট ও রক্তশুন্যতা প্রকট। তাকে কয়েকবার রক্ত দিতে হয়েছে। স্বেচ্ছায় রক্ত দান করতে এসে কলেজছাত্র সুজনের নজরে আসে এ শিশুটির জীবনের চরম অমানবিক বিষয়টি।
শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বিদ্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় লাইব্রেরী কক্ষে নিযে তাকে ধর্ষন করেছে। এরপরে প্রায়ই সহকারী শিক্ষিকা রেবা তাকে লাইব্রেরীতে ডেকে নেয়ার পর প্রধান শিক্ষক ধর্ষন করতো। রেবা লাইব্রেরীর বাইরে পাহাড়ায় থাকতো। পরবর্তীতে একই বাড়ির চাচা সম্পর্কীয় জুয়েলও বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে ধর্ষন করতো। গর্ভের চারমাসের সময় তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে মায়ের চাপের মুখে তার কাছে সবকিছু খুলে বলে। তখন প্রধান শিক্ষকের চাপের মুখে শুধুমাত্র জুয়েলকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে শিশুটির মা।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, শুধুমাত্র জুয়েলকে আসামী করে মামলা করায় তাকে গ্রেফতার করা হলে সে কারাগারে রয়েছে। মামলায় জুয়েলের বিরুদ্ধে চার্জসীটও দেয়া হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষকের নাম আসা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, জুয়েল শিশুটির নিকটাত্মীয়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে প্রধান শিক্ষককে নাম এখন এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *