বরিশালে সরোয়ার অনুসারীদের বাধায় কৃষকদলের সভা পন্ড

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে কৃষকদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষে মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে। দলটির একাংশ মঙ্গলবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সভা করার চেস্টা করলে অপরাংশের বাধায় তা পন্ড হয়ে গেছে। ওই সভায় দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন কে প্রধান অতিথি করায় নগর সভাপতি সরোয়ার অনুসারী কয়েকশ নেতাকর্মী প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়ে সভাস্থল দখল করে নেয়। কৃষক দলের আহবায়ক দাবীদার মহসিন আলম অভিযোগ করেছেন, চাঁন ভাইকে প্রধান অতিথি করায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। তাকে(চাঁন) একটি পক্ষ বরিশালের কোথাও কর্মসুচী করতে দিচ্ছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষকদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা করার উদ্যোগ নেয় সদ্য গঠিত কমিটির আহবায়ক দাবীদার মহসিন আলম অনুসারীরা। তারা ওই সভায় প্রধান অতিথি করেন দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁনকে। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম শাহিনকে। কিন্তু ওই কমিটির বিরোধীতাকারী দলের নগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার অনুসারী একাংশ সকাল ১০টা থেকেই প্রেসক্লাবে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে বেলা ১২টার মধ্যে সেখানে সরোয়ার অনুসারী ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাবেকদলের কয়েকশ নেতাকর্মী জরো হয়। পরে তারা প্রেসক্লাবের ৩য় তলার সভা স্থল দখল করে নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে সভা আহবানকারীরা মহিলা কলেজের পেছনের দিক দিয়ে সটকে পরে।
কেন সভা পন্ড হল জানতে চাইলে কৃষক দলের আহবায়ক দাবীদার মহসিন আলম বলেন, তাকে আহবায়ক করে দক্ষিন জেলা কৃষক দলের কমিটি সম্প্রতি কেন্দ্র অনুমোদন দেয়। ওই কমিটিতে সুপারিশ করেন জেলা সভাপতি চাঁন। শুরু থেকেই একটি পক্ষ এর বিরোধীতা করছে। মঙ্গলবার প্রেসক্লাবে কৃষকদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সভার আয়োজন করেন তারা। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁন ভাই। কিন্তু তাকে(চাঁন) বরিশালের কোথাও কর্মসুচী করতে দিচ্ছে না একটি পক্ষ। যেকারনে পরিস্থিতি খারাপ হয়। সকাল থেকেই প্রেসক্লাবে অহেদুজ্জামান প্রিন্স এর নেতৃত্বে ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। তিনি বলেন, সরোয়ার ভাই আমাদের বড় নেতা। আবার চাঁন ভাই এর দাবী এটা জেলার সভা সেখানে তিনিই (চাঁন) প্রধান অতিথি থাকবেন। প্রধান অতিথি করা নিয়ে এই পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে কিনা এ প্রসঙ্গে মহসিন বলেন, ‘এমন কিছুই মনে হয়।’ ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তারা মারামারি করতে চেয়েছিল। পরে সিনিয়রদের পরামর্শে সভা আর করেননি।
অপরদিকে সরোয়ার অনুসারী বিএনপি নেতা আ: জব্বার সিকদার বলেন, চাঁন ভাই কৃষকদলের পকেট কমিটি করেছেন। এই কমিটি কেউ যানে না, মানে না। পদবঞ্চিতদের দাবী মাঠের কর্মী দিয়ে কমিটি করা হোক। যারা কমিটিতে আছে ওই নেতারা ১২ বছরে সদর রোডে আসেনি। রাতের অন্ধকারে তারা কমিটি করিয়েছে। কৃষকদলের বঞ্চিত নেতারা এসব কারনে মঙ্গলবার প্রেসক্লাবে ওই সভায় গিয়ে চাঁন ভাই এর কাছে দাবী তুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চাঁন ভাই সভায় আসেননি।
সরোয়ার অনুসারী দক্ষিন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন বলেন, কৃষকদলের ওই সভা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কমিটি যে করা হয়েছে তাও তিনি জানেন না। তবে শুনেছেন মঙ্গলবার কৃষকদলের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে।
এব্যপারে বরিশাল দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, কৃষকদলের সভাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন আগে দলীয় কার্যালয়ে যে বিশৃংখলা ঘটিয়েছিল তেমনটাই করতে চেয়েছিল একটি পক্ষ। তিনি খবর পেয়ে সভা করতে নিষেধ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা জেলার কর্মসুচী। জেলার সভাপতিই তো প্রধান অতিথি থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *