নাগরিক রিপোর্ট: পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়া অদম্য শিশু মুক্তামনি (১২) জিপিএ- ৫ পেয়ে উত্তীর্ন হয়েছে। মঙ্গলবার ফল প্রকাশের পর পরিবার ও শিক্ষকরা খুশী মুক্তাকে নিয়ে। হিজলা উপজেলার পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুক্তমনি এ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল।
বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাছিমা খানম উচ্ছাসিত কন্ঠে বলেন, ‘স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। মুক্তামনি পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমরা আশাকরি সামনের দিনগুলো তার আরো ভালোভাবে কাটবে এবং ভবিষ্যত তার উজ্জল হবে’।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার দু’দিন পর দাদী মারা যাওয়ায় মুক্তামনি মায়ের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান করছে। সে সাভারের একটি স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা জানিয়েছে।
বরিশালের হিজলা উপজেলার পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা গ্রামের সেন্টু সরদার ও ঝুমুর বেগম দম্পতির সন্তান মুক্তা। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ছিল মুক্তা। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় বিদুৎপৃষ্টে তার দুই হাত পুড়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার দুই হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে ফেলে। ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের সঙ্গে কলম আটকে স্বাভাবিক গতিতে লিখতে পারে সে। এ অবস্থায় সে পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। তার লেখা অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে স্ন্দুর বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নাছিমা খানম।
মুক্তার মা ঝুমুর বেগম ঢাকায় একটি গামেন্টেসে চাকুরী করেন। মুক্তার ছোট একটি বোন আছে। বাবা সেন্টু সরদার তেমন একটা খোঁজ খবর নেননা বলে জানান মুক্তামনির মা ঝুমুর বেগম। তিনি জানান,গার্মেন্টেসে চাকুরীর সামান্য আয়ে দুই মেয়েকে পড়াশুনা করাতে কষ্ট হয়। তারপরও মেয়েদের আগ্রহের কারণে, পড়াশুনা চালিয়ে নিচ্ছেন। দুই মেয়েকে যাতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন এজন্য তিনি সরকারি সহায়তা চান। মুক্তমনি বড় হয়ে শিক্ষক হতে চায়। এর আগে মুক্তামনি’র পিইসি পরীক্ষা চলাকালে গত ২২ নভেম্বর তাকে নিয়ে একটি স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
২০২০-০১-০১
