নাগরিক রিপোর্ট: ঘন কুয়াশায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের সংঘর্ষে বরিশালের বাকেরগঞ্জের এক অন্ত:স্বত্তা মা ও শিশু পুত্র নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে লঞ্চের কমপক্ষে ১০ যাত্রী। এদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরনের আশংকায় রয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে বরিশাল ও চাঁদপুরের মোহনা মেঘনা নদীর নামারচর নামক স্থানে এমভি কীর্তনখোলা-১০ এবং এমভি ফারহান-৯ লঞ্চে এ সংঘর্ষ ঘটে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিএ। আঞ্চলিক নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড চীফ সার্ভেয়ার আবু হেলাল সিদ্দিকি বলেছেন, লঞ্চ দুটির সার্ভে সনদ স্থগিত করা হচ্ছে। এদিকে ফারহান-৯ লঞ্চের মাস্টার ও সুকানীকে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে আটক করেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার সোমবার বলেন, নিহতরা হচ্ছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের ভান্ডারিকাঠি গ্রামের রুবেল খান আব্বাসের স্ত্রী মাহমুদা (২৩) ও তার শিশু পুত্র মুমিন (৬)। তারা কীর্তণখোলা-১০ লঞ্চের ডেকযাত্রী ছিলেন। মাহমুদা ছিলেন অন্তস্বত্বা। তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে দায়ী ফারহান লঞ্চের মাস্টার ও চালকে গ্রেপ্তার সহ লঞ্চটি আটকের জন্য পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জের গারুরিয়ার স্কুল শিক্ষক বাবু খান বলেন, আব্বাস তার প্রতিবেশী। তিনি একজন মাইক্রো চালক। তার স্ত্রী অন্ত:স্বত্তা ছিলেন। লঞ্চে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে থাকা আব্বাস তাকে ফোনে এ দুর্ঘটনার খবর জানান। এ ঘটনায় ওই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দূর্ঘটনার পর কীর্তণখোলা-১০ লঞ্চ হতাহতদের নিয়ে ঢাকা সদর ঘাটে পৌছে। অপরদিকে ফারহান- ৯ লঞ্চ সোমবার বেলা ২টায় হুলাহাটে পৌছে।
এমভি কীর্তনখোলা-১০ এর মাস্টার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে হুলারহাটগামী ফারহান লঞ্চটি কুয়াশার মধ্যে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চের নীচতলা ও দোতলার অংশ দুমড়ে মুচরে যায়। এ ঘটনায় কম পক্ষে ২জন যাত্রী নিহত হয়েছে। এমভি কীর্তনখোলার ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, ফারহান-৯ লঞ্চে কুয়াশা নির্নয়ের কোন যন্ত্রপাতি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে তার লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আহত হয়েছে ৮জন।
চাঁদপুর নৌ-পুলিশের ওসি আবু তাহের জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ২ জন নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে চাঁদপুরে আহতদের নামিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এমভি ফারহান-৯ এর কেরানী আল আমিন জানান, কুয়াশার কারনে লঞ্চটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে লঞ্চের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।
এদিকে পিরোজপুর সদর থানার ওসি নুরুল ইসলাম সোমবার বিকেলে জানান, ফারহান লঞ্চ সোমবার বেলা ১২টায় পিরোজপুরের হুলারহাট ষ্টেশনে পৌছে। তার আগেই লঞ্চঘাটে পুলিশ অবস্থান নেয়। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেয়ার পর লঞ্চের মাস্টার খন্দকার আফতাব আলী ও সুকানী আব্দুল হামিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।##
২০২০-০১-১৩
