নাগরিকি রপোর্ট: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত প্রায় ৩ হাজার চীনা প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের এখন চীন সফর না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ভাইরাসের সংক্রামন প্রতিরোধে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালসহ বিভাগের অপর ৫ জেলায় সর্বাতœক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।
কলাপাড়া পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২ হাজার ৭০০ চীনা প্রকৌশলী এবং শ্রমিক কর্মরত আছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কর্মরত চীনা এবং বাংলাদেশী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে সচেতনতামুলক সভা করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. চিম্ময় হালদারসহ স্বাস্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. চিম্ময় হালদার জানান, করোনয়া ভাইরাসের উপসর্গ, লক্ষনসমুহ এবং করনীয় সম্পর্কে কর্মরত চীনা কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরও সচেতন থাকার পরমর্শ দেয়া হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যেসব চীনা নাগরিক দেশে গেছেন তারা যেন এ মুহুর্তে বাংলাদেশে ফিরে না আসেন এজন্য তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, চলতি মাঘ মাসে চীনাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। পায়রায় কর্মরত চীনা কর্মকর্তা-শ্রমিকরা দেশে গিয়ে ওই উৎসবে অংশ নেন। কিন্ত করেনা ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারন করায় এবছর ওই উৎসবে না যেতে চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গতকাল বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
এদিকে পায়রায় কর্মরত চীনা নাগরিকদের কলাপাড়া পৌর শহরের হাটবাজারে যাওয়া এবং জনবহুল স্থানে তাদের ঘোরাফেরা নিয়ে স্থানীয় সাধারন মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কলাপাড়া পৌর শহরের একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, চীনা নাগরিকদের অবাধে চলাফেরা স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না। ফলে একটি মহল চীনা নাগরিকদের নিয়ে নানারকম গুজব ছড়াচ্ছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মঙ্গলবার খোলা হয়েছে করোনা ভাইরাস ইউনিট। ওই ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং ২৫ জন সেবিকা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, জরুরী বিভাগের পাশেই একটি কক্ষ করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার উপযোগী করে রাখা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃঞ্চ মন্ডল জানান, মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের সব জেলা ও সদর হাসপাতালকে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
২০২০-০১-২৯
