সৈয়দ জুয়েল: ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা কাইরা নিতে চায়। ওরা কথায় কথায় কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাত পায়।’ ভাষার প্রতি ভালবাসার টান বাঙ্গালীরা যতটুকু অনুভব করেছিল, পৃথিবীর আর কোন জাতি তাদের ভাষার জন্য এতটা টান গভীরভাবে অনুভব করেছিল কি না তা ভাববার বিষয়। একমাত্র বাঙ্গালীরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, পৃথিবীতে এ বিরল ঘটনা দ্বিতীয় আর নেই। সেই বাংলাভাষার মর্যাদা কতটা অক্ষুন্ন থাকছে তা ভাববার সময় এসেছে ভাষার মাসের শুরুতেই।
তৎকালীন গভর্নর জেনারেল কায়েদে আজম জিন্নাহ পূর্ব বাংলা সফরে এসে যখন ঘোষনা দিলেন-উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাস্ট্রভাষা দ্বিতীয় কোন ভাষা নয়। এরপরই গর্জে ওঠে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজিবী সহ আপামর জনতা। ১৯৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করে বাঙ্গালীর বীর সন্তানরা। ওই মিছিলে গুলিবর্ষনে শহীদ হন ছালাম, বরকত, রফিক সহ আরো অনেকে। ২১ ফেব্রুয়ারীর ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে রাজপথ আবার উত্তপ্ত হয়, আবারও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করেন ভাষাপ্রেমী আপামর জনতা। গন আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার তাদের সিদ্ধান্তে পিছু হটে ১৯৫৪ সালের ৭ই মে পাকিস্তান গন পরিষদে বাংলা অন্যতম রাস্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হয়।
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের ২১৪ নং অনুচ্ছেদে বাংলা ও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে একমাত্র রাস্ট্রভাষা বাংলা প্রবর্তিত হয়। যাদের রক্তের আতœত্যাগে পেয়েছি আমরা মায়ের ভাষা, সেই সব বীর শহীদদের এ ভাষার মাসে বাঙ্গালীরা স্মরন করেন শ্রদ্ধাভরে। তাদের রক্ত যে বৃথা যায়নি তার স্বীকৃতি স্বরুপ আমরা পেয়েছি ২১ এ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি।
দেশের প্রতিটি স্তরে বাংলাভাষার সঠিক ব্যাবহারে শহীদদের রক্তের কিছুটা হলেও দায়মুক্তি হবে। আর তাই শুধু ভাষার মাস নয়, পুরো বছরই যেন শুদ্ধ চর্চা করি আমরা। এটাই ভাষার মাস, প্রানের মাসের যেন উপলব্দি হোক প্রতিটি বাঙ্গালীর মনের সম্মাানের জায়গাটুকুতে। তাহলেই স্বার্থক হবে- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।’

