এসএসসিতে পুরোনো প্রশ্নে পরীক্ষা: কেন্দ্র সুপার বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্রে বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহন করায় কেন্দ্র সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৪জন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া ওই ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদেরকে যথাক্রমে ৫ ও ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক হলেন হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম। তিনি কেন্দ্র সুপারের দায়িত্বে ছিলেন। পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাসুদা বেগম ও মো. সাইদুজ্জামান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহানাজ পারভীন শিমু ও শেখ জেবুন্নেছা। তাদের মধ্যে শেখ জেবন্নেছা ও মাসুদা বেগম এমপিওভ‚ক্ত এবং শাহনাজা পারভীন শিমু ও মো. সাইদুজ্জামান খন্ডকালীন শিক্ষক বলে স্কুল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাসকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা নাসরিন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আব্বাস উদ্দিনকে প্রধান এবং বোর্ডের উপ-সচিব আব্দুর রহমান ও সেকশন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামকে সদস্য করে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, এসএসসি পরীক্ষা একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়। পরীক্ষা গ্রহনে সংশ্লিস্ট হল সুপার এবং ওই কক্ষের ৪ পরিদর্শক দায়িত্বে অবহেলা, গাফেলতি এবং খামখেয়ালী করায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুটি কক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ী কেজুয়াল পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে নৈবত্তিক পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই দুটি কক্ষে নগরীর জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ এবং অক্সফোর্ড মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ জন পরীক্ষার্থী ছিল। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *