নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালে মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ চক্রটি দীর্ঘবছর যাবত বরিশাল থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে খুলনায় পাঁচার করতো। সম্প্রতি নগরীর কাউনিয়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগের সুত্র ধরে পুলিশ চোর চক্রের সন্ধান পায়।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, বরিশাল শহরের পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার কাঞ্চন আলীর ছেলে আল আমিন (২১), বাগেরহাট জেলার মোংলার সিগনাল টাওয়ারোর এলাকার মো. হারুন হাওলাদারের ছেলে ইউনুস হাওলাদার (২৯) ও খুলনা জেলার ফুলতলার দামুদার এলাকার মৃত আহম্মদ দপ্তরির ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৫)।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মো. খাইরুল আলম তার দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, গত ২১ জানুয়ারী দিবাগত রাতে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা লাবু খান নামক এক ব্যক্তির ইয়ামাহা কোম্পানির এফজেড ভার্সন-৫ মোটরসাইকেলটি বাসার গেটের তালা ভেঙ্গে দৃর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় লাবু খান কাউনিয়া থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ চোর চক্রের সন্ধানে নামে।
বিভিন্ন তথ্যের ভিতিত্তে প্রথমে নগরীর কাউনিয়া এলাকার আল আমিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার দোয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত রাতে বরিশাল ও খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইউনুস এবং চক্রের মূলহোতা রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়। এ দুজনের দেয়া তথ্যানুযায়ী লাবু খানের মোটরসাইকেলটি খুলনা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা জানায়, আনুমানিক ২০১৫ সাল থেকে রবিউল ও তার লোকজন এ কাজের সঙ্গে জড়িত। এ চক্রের বাকি সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ আশা করছে, চুরি যাওয়া আরও অনেক মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে আল আমিনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে চোরচক্রের মূলহোতা রবিউল ও ইউনুসের সন্ধান পেয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্যনুযায়ী, বরিশাল থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল একাধিক হাত বদল হয়ে বিভিন্নপথে গোপালগঞ্জ হয়ে সরাসরি খুলনায় চলে যেত। সেখানে তারা এগুলো কমদামে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করতো। পুরো প্রক্রিয়ায় ছয়-সাতজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে।##
২০২০-০২-০৬
