সম্পাদকীয়: বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি কিশোরগঞ্জে এক কর্মশালায় বলেছেন, ‘শিগগির দেশের সব সাংবাদিককে আইডি কার্ড দেয়া হবে। যে কেউ চাইলেই নিজেদের প্রেসম্যান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।’ প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য সকল পেশাদার সাংবাদিকের মনে আশার সঞ্চার ঘটেছে। তাদের প্রত্যাশা সাংবাদিকতায় একদিন ঠিকই এর বাস্তবায়ন হবে।
হাওর এলাকার সেই হাওয়া বরিশালেও বইছে। রোববার রাতে বরিশাল প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগীতায় ক্লাবের সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নগরীতে কারা সাংবাদিকতা করেন তার একটি তালিকা করার আহবান জানান প্রশাসনের কাছে। এজন্য একটি কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “ডেইলি নাগরিক” এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিল। যার শিরোনাম ছিল- ‘সাংবাদিকদের তালিকা করার আহবান বরিশাল প্রেসক্লাবের’। প্রেসক্লাব সম্পাদকের প্রকাশ্যে এমন সাহসী মন্তব্যকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তিনি বরাবরই এধরনের সাহসী মন্তব্য করেন ইনডোর (সভা, সেমিনারে) এ । কয়েক বছর আগেও প্রেসক্লাবের বর্তমান সম্পাদক পুলিশ লাইনস এ একটি অনুষ্ঠানে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ নির্মূলের প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন প্রশাসনের উপস্থিতিতে। তখন ওই সভায় যেমন তৎকালীন রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ছিলেন, তেমনি রবিবার রাতের সভায় বর্তমান পুলিশ কমিশনার, এমনকি র্যাব-৮ এর অধিনায়কও অতিথি হিসেবে ছিলেন।
এখন মেঘনা তীরের জেলেদেরও পরিচয়পত্র আছে। কিন্তু কে সাংবাদিক তা সনাক্ত করা বড়ই কঠিন। কেননা এই পেশায় উকিল, মোক্তার, মুচি, ধোপ, কসাই, শ্রমিক, টোকাই- অনেকেই বড় বড় পদ ঝুলিয়ে নগরময় ঘুরে বেড়ান। আবার আমরাই সভা, সেমিনার, কিংবা খেলার মাঠে মাইকের হ্যান্ড স্পীকার পেলে নিজেকে ‘চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত’ ভেবে ওই সব পদধারীদের ‘সিনিয়র সাংবাদিক’ হিসেবে জাহির করি।
তবে মাঠের সাংবাদিকরা কেবল নিজের পেশার সুরক্ষা পেলেই সন্তুস্ট। এজন্য কে অপেশাদার, কিংবা কে চাঁদাবাজ তা ভাবার সময় নেই । অবশ্য সাংবাদিক সমাজ মনে করেন- কারা সাংবাদিক; এর একটি রাস্ট্রীয় ‘পরিচয়’ দরকার। আমরা আশা করি বরিশাল প্রেসক্লাব সম্পাদকের মত সকল সাংবাদিক নেতার এধরনের বক্তব্য কেবল মুখে নয়, একদিন বাস্তবে রুপ নিবে। আর সেদিন হয়তো সাংবাদিকদের মর্যাদা এবং পেশারও সুরক্ষা হবে।

