নাগরিক রিপোর্ট: থানায় বিচার চাইতে যাওয়া এক মুক্তিযোদ্ধাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা শাহে আলম (৭০) বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে ওই থানা থেকেই ২০০৪ সালে অবসরগ্রহন করেন। তার দুই ছেলেও পুলিশের কনষ্টবল। তবে ওসি আবুল কালাম তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শাহে আলমের ছেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত কনষ্টবল মো. মালেক জানান, নেয়ামতি বাজারে তার মায়ের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ৬ শতাংশ জমি নিয়ে আপন মামা মো. মোস্তাফিজের সঙ্গে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে তার ভাই র্যাব-৯ এর সদস্য (পুলিশের কনষ্টবল) বাদশা ছুটি কাটিয়ে নেয়ামতি থেকে লঞ্চযোগে কর্মস্থল সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
এ সময় বাজারের জমি নিয়ে বাদশার সঙ্গে মামা মোস্তফার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মারামারিতে বাদশা আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে বাজারের রুহুল আমীনের কসমেটিক্সের দোকানে ঢুকে পড়ে। ক্ষুব্ধ হয়ে মোস্তফা ওই দোকানের গøাস ভাংচুর এবং সাটারে ধারালো অস্ত্রের কোপ দেয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে প্রানে রক্ষা পায় বাদশা। এ ঘটনায় ওইদিনই তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শাহে আলম হামলাকারী মোস্তফার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি তার ছেলে বাদশাকে প্রাননাশের চেস্টার অভিযোগ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা শাহে আলম জানান, মঙ্গলবার দেয়া অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ জানতে বুধবার সন্ধ্যার পর ওসি’র কক্ষে যান তিনি। এ সময় ওসি তার দেয়া অভিযোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিবাদীর সঙ্গে সমঝোতা করতে বলেন। তিনি সমঝোতায় রাজী না হয়ে র্যাব সদস্য ছেলেকে হত্যাচেস্টার বিচার দাবী করেন। এ সময় ওসি উত্তেজিত হয়ে তাকে গালাগাল করেন এবং তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
এব্যপারে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, তাদের শালা-দুলাভাই বিরোধ। হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে হামলার সত্যতা পায়নি। তারা বাদী-বিবাদী থানায় বসে ঝগড়ায় লিপ্ত হলে তিনি থানার বাইরে গিয়ে তাদের ঝামেলা মেটাতে বলেন। তাকে কোনভাবে গালাগাল কিংবা থানা থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়নি। অভিযোগকারী মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেবে। তবে মামলার প্রাথমিক সত্যতা না থাকায় এ মামলা টিকবে না বলে ওসি মন্তব্য করেন।
২০২০-০২-২০
