নাগরিক রিপোর্ট: নবীন শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়ানো নিয়ে বিরোধের জেরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দুদল শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ক্যাম্পাসে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে এ সংঘর্ষ হয়। এরপর পরই ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত ৪ শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ রাফি ও রুম্মান হোসেন এবং ভুতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের জিদান হোসেন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের হাফিজুর রহমানকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সুত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে লিপ্ত উভয়পক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী (ববিতে ছাত্রলীগের কমিটি নেই)। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে কিছুদিন আগে। এ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াতে অষ্টম ব্যাচের ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী নাভিদ গ্রæপ ও রাফি গ্রæপের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল। এরই জের ধরে গতকাল দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
আহত রুম্মান হোসেন জানান, নগর বিএনপি নেতার ছেলে নাভিদ দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পরিচয় দিচ্ছে। নবীন শিক্ষাথীরা তার সঙ্গে রাজনীতি না করে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হযে নাভিদ মঙ্গলবার বিকেলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে প্রথমে রাফি এবং পরে আমার (রুম্মান) ওপর হামলা চালায়।
অপরদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদ জামান নাভিদ বলেন, রাফি প্রথমে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বন্ধু হাফিজের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে হাফিজকে উদ্ধারের জন্য আমরা ক্যাম্পাসের সামনে আসি। সেসময় আমার উত্তেজিত বন্ধুদের সঙ্গে ওদের হাতাহাতি হয়।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন শান্ত আছে। ঘটনা শুনে তৎক্ষনিক আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
২০২০-০২-২৫
