নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে চরমোনাইর দরবার শরিফ। জেলার সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনের এ চিত্র এখন আশপাশের ৩ কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কিছু ফসলি জমি। বর্তমানে সেখানকার শতাধিক পরিবার জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল(অব:) জাহিদ ফারুক এমপি ওই এলাকার ভাঙ্গনরোধে উদ্যোগ নেয়ার নির্র্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসীর দাবী আসন্ন বর্ষার আগেই ভাঙ্গন প্রতিরোধে উদ্যোগ না নিলে ভয়াবহ অবস্থায় রুপ নিবে চরমোনাই।
চরমোনাই দরবার শরীফ সংলাগ্ন ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মিলন চন্দ্র রায় বলেন, কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনের কারনে চরমোনাই পীরের বাড়ি থেকে পশ্চিমে লামছরি খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক এই এলাকা পরিদর্শন করে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেন। কিন্তু এখন তা কাজে আসছে না। তিনি বলেন, বর্ষার আগেই বøক না ফেললে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করবে চরমোনাই এলাকায়।
অভিযোগ রয়েছে, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভাঙ্গনের মুল অংশে জিও ব্যাগ না ফেলে ভাঙ্গনকবলিত স্থানের অনেকটা দুরে ফেলা হয় ব্যাগ। যেকারনে নতুন করে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে। সুত্রমতে, পরবর্তীতে ভাঙ্গন এলাকায় অল্পসংখ্যক ব্যাগ পৌঁছানো ছাড়া এখনও তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। ফলে ইতিমধ্যেই নদী সংলগ্ন রাস্তা, বাধ ও ফসলী জমি ভাঙ্গছে অস্বাভাবিক হারে। হুমকির মুখে রয়েছে চরমোনাইর দরবার শরিফ, মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, চরমোনাইর মাহফিলকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত ঘটে। কিন্তু নদী ভাঙ্গনের কারনে অদুর ভবিষ্যতে তা বাধাগ্রস্থ গতে পারে। তাদের ভাষ্যমতে, কীর্তনখোলা নদীর বেলতলার অপর পাশের চরে যেভাবে ড্রেজিং করে বালু কেটে খনন করা হয়েছে চরমোনাই দরবার শরীফ সংলগ্ন পোটকার চরের নদীপ্রান্ত কেটে খনন করলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে জানতে চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
২০২০-০৪-২৩
