বাউফলে আ’লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বাউফলে এমপি আ স ম ফিরোজ ও মেয়র মো: জিয়াউল হক গ্রæপর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আহত ছাত্রলীগ কর্মী তাপস দাস(২৫) রোববার রাত ৮টায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাায় মারা গেছেন। নিহত তাপসের ভাই রাজীব দাস তাপসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তাপস উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বিধু দাসের পুত্র। রোববার দুপুরে ডাকবাংলোর সামনে তোরণ নির্মাণ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, রোববার দুপুরে পৌর শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সামনে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক জুয়েলের পক্ষে করোনাভাইরাসের সংক্রমনরোধে প্রচারের জন্য একটি তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছিল। এসময় এমপি আ স ম ফিরোজ গ্রæপর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন নেতাকর্মী এসে বাধা দেয়। খবর পেয়ে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ঘটনাস্থলে আসলে ইব্রাহিম ফারুকের সাথে তার তর্কবিতর্ক হয়। এসময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মারমুখি হয়ে পরে। ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ায়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা ধরে দফায় দফায় দু পক্ষের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইউএনও এবং বাউফল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: ফারুক হোসেনের মধ্যস্থতায় মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ও ইব্রাহিম ফারুককে নিয়ে ওসির কক্ষে সমজোতা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলাকালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির মোল্লার নেতৃত্বে কালাইয়া থেকে ২০/৩০ জন লোক মটর সাইকেলযোগে ডাকবাংলোর সামনে এসে তোরণের বাঁশের খুটি ভেঙ্গে ফেলে। এসময় মেয়র গ্রæপের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা ডাকবাংলোর মধ্যে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় এমপি গ্রæপের ছাত্রলীগ কর্মী তাপস (২৫), পঙ্কজ (৩৫) আহত হয়।
এর আগে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এমপি গ্রুপের নাজিরপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও ছাত্রলীগ কর্মী শামীম এবং মেয়র গ্রুপের যুবলীগ কর্মী ইব্রাহিম (৩৫), বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ (২৫) আহত হয়। পুলিশ লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী তাপসকে (২৫) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে এবং পঙ্কজকে (৩৫) বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৮টায় ছাত্রলীগ কর্মী তাপস শেবাচিম হাসপাতালে মারা যান।
বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, ইব্রাহিম ফারুকের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে তোরণ নির্মাণকালে বাধা দেয় এবং তোরণের কাঠামো ভাংচুর করে। অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক বলেন, তিনি এ বিষয়ে এর আগে মাঠ পর্যায়ে কথা বলেছেন। যা ঘটেছে তা সকলেই জানেন।
এব্যপারের সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেন, পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে ফের আলোচনার চেস্টা চলছে।। তবে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *