নাগরিক রিপোর্ট: পরকিয়া প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করেছেন পুত্রবধু। সঙ্গে নিয়ে গেছেন প্রবাসী স্বামীর ২০ লাখ টাকা এবং ৪ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার- এমন অভিযোগ করায় ছাত্রলীগ নেতা কাজী মুরাদের রোষানলে পড়েছেন মুলাদীর তেরচর গ্রামের আবুল হাসেম কাজীর পরিবার। প্রায় ১৫দিন যাবত এ পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে।
তিনি কাজী আবুল হাসেমের ছেলে কুয়েত প্রবাসী কাজী মোতালেবের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী আসমা বেগমকে (৩২) গত ১৬ নভেম্বর বিয়ে করেছেন।
কাজী আবুল হাসেম বৃহস্পতিবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে কাজী মুরাদের কবল থেকে বাঁচার জন্য প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কাজী মোতালেব কুয়েত প্রবাসী হওয়ায় তার স্ত্রী আসমা বেগমকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেছেন কাজী মুরাদ। আসমা শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৪ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণলংকার নিয়ে গেছে। কাজী আবুল হাসেম বলেন, তার ফেলে যাওয়া দুটি শিশু সন্তান মানবেতর অবস্থায় আছে। মুরাদ ও তার স্ত্রী আসমা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। থানায় অভিযোগ দেয়ায় তার (কাজী হাসেম) পরিবারকে মুরাদের লোকজন অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের ভয়ে কাজী মোতালেবও কুয়েত থেকে দেশে ফিরছেন না। কাজী হাসেমের অভিযোগ, তিনি কাজী মুরাদের বিচার চেয়ে ছাত্রলীগের জেলা ও কমিটি এবং আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী মুরাদের মুঠোফোনে (০১৭১৮-১৩১৩৮৪) একাধিবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত বলেন, কাজী মুরাদ যেহেতু ওই নারীকে বিয়ে করেছেন এখন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। কাজী আবুল হাসেমের পরিবারকে হেনস্থা করে থাকলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তিনি জেলা ছাত্রলীগকে বিষয়টি অভিযোগ আকারে জানাননি বলে সুমন সেরনিয়াবাত দাবী করেন।
