নাগরিক রিপোর্ট: ভূল চিকিৎসার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরন করার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোশিয়েসন (বিএমএ) বরিশাল শাখা।
সংগঠনের সহ সভাপতি ডা. সৈয়দ মাকসুদ হক ও সাধারন সম্পাদক ডা. মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে এসআই রিয়াজুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে তাকে কোতোয়ালী থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবী জানান। একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে যাতে চিকিৎসকদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরন না করেন তার ব্যবস্থা নিতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দাবী জানান।
বিবৃতিতে বিএমএ’র বরিশাল শাখার সভাপতি ও ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালের সুপারিনটেন্ড ডা. ইসতিয়াক হোসেনকে মামলার আসামী করায় নিন্দা জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, একজন সার্জন চিকিৎসকের ভুল অপারেশনের সঙ্গে ডা: ইসতিয়াক হোসেন সম্পৃক্ত নন। তাকে হয়রানি করার জন্য ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে।
এসআই রিয়াজুল ইসলাম গত ২২ ডিসেম্বর রাত ৯টায় মামলার প্রাথমিক তদন্তে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান। এসময় তিনি হাসপাতালে অনুপস্থিত হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ও বিএমএ সভাপতি ডা. ইসতিয়াক হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
বিএমএ’র বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়- ভুল অপারেশনের অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা.এমএস রহমান ঘটনার শিকার রোগী মানিক কারিকরের চিকিৎসার দায়িত্ব বহনের ঘোষণা দিলে মানিক কারিকর মামলা প্রত্যাহারের জন্য থানায় যান। কিন্তু থানার কর্মকর্তারা মামলা প্রত্যাহার না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এরপরে গত বৃহস্পিতবার এফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন ভুল অপারেশনের শিকার মানিক কারিকর।
প্রসঙ্গত, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ডা: এমএস রহমান সুমন গত ১৭ ডিসেম্বর মানিক কারিকর নামক এক রোগীর হার্নিয়ার অপারেশন করেন। তার বাম পাশে অপারেশন করার কথা থাকলেও চিকিৎসক এমএস রহমান সুমন ডান পাশে অপারেশন করেন। এ অভিযোগে মানিক কারিকর গত ২০ ডিসেম্বর বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
