নগদ’র সেবা নিয়ে ভোগান্তিতে হাজারো সুবিধাভোগী

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
অর্থ লেনদেনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ এর খামখেয়ালীতে বরিশালে দুর্ভোগে পড়েছেন সামাজিক সহায়তা (বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতা) ভোগী হাজারো মানুষ। এসব সুবিধাভোগীদের সেবাদানে মাত্র ১জন জনবল নিয়োগ করেছেন নগদ কর্তৃপক্ষ। যেকারনে বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাভোগীরা প্রতিদিন বরিশাল প্রধান ডাকঘরের নগদ কাউন্টারে ধর্না দিচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাড়িয়ে থেকেও অসহায় এই মানুষগুলো সেবা পাচ্ছেন না। এদিকে দিনের পর দিন শত শত মানুষের ভীড়ে বিশৃংখল পরিবেশ সৃস্টি হচ্ছে বরিশাল প্রধান ডাকঘরে। এ নিয়ে গোটা বিভাগে নগদ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


বরিশাল জেলার উত্তর জনপদ উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন থেকে রাসেল আকন নামে এক যুবক রবিবার প্রধান ডাকঘরে এসেছেন নগদ এর পিন কোড ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে। তার স্বজন বয়স্কভাতা পেলেও পিন কোড ভুল হওয়ায় ওই অর্থ এখন আর তুলতে পাড়ছেন না। রাসেল রবিবার দুপুরে বলেন, তিনি ৩৫ কিলোমিটার দুর থেকে সকালে বরিশাল প্রধান ডাকঘরে এসে দেখেন দীর্ঘ লাইন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার আশা দেখছেন না এই যুবক।


বরিশার সদর উপজেলার রায়পাশা থেকে এসেছেন গৃহবধু সোনিয়া আক্তার। শাশুড়ির বিধবা ভাতা তুলতে গিয়েও নগদ এর পিন কোড জটিলতায় ১৫ দিন ধরে টাকা তুলতে পাড়ছেন না। সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আর এক গ্রহক নাজের হাওলাদার বলেন, তিনি তার বৃদ্ধা মা কে নিয়ে এসেছেন বয়স্ক ভাতা তুলতে নগদ এর সমস্যা দুর করার জন্য। কিন্তু গ্রাহকের ঠেলাঠেলি আর চিৎকারে মা আর দাড়িয়ে থাকতে পারছেন না। যেকারনে চলে যাওয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই।


রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল নগরীর প্রধান ডাকঘরে গিয়ে দেখা গেল শতশত মানুষ নগদ সেবা নিতে এসে ভোগন্তিতে পড়েছেন। কারন পোস্ট অফিসের মাত্র একটি কাউন্টারে সেবা দিচ্ছেন নগদ এর ১জন স্টাফ। এ নিয়ে সামাজিক সহায়তা ভোগী অসহায় দরিদ্র মানুষগুলো প্রধান ডাকঘরে চরম বিশৃংখল পরিবেশ সৃস্টি করছেন। সেবা প্রত্যাশীদের হট্টগোলে হিমশিম খেতে হচ্ছে নগদ কর্তৃপক্ষের।


জানতে চাইলে বরিশাল প্রধান ডাকঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘নগদ’ এর কাস্টমার সেবার অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, তারা গ্রাহকদের সেবা দেয়ার চেস্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু লোকবল না থাকায় কার্যক্রম ধীরে হচ্ছে। দৈনিক কতজন গ্রাহক এভাবে সেবা দিতে আসছেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি হিসাব করে রাখতে পাড়ছেন না তারা। এই ভোগান্তি লাঘবে নগদ কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিবে কিনা এ প্রসঙ্গে অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এমন সিদ্ধান্ত প্রধান কার্যালয় থেকেই দিবে। তার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই।


প্রধান ডাকঘরের একাধিক কাউন্টারে চিঠি লেনদেনে আসা গ্রাহকরা এজন্য সেবা নিতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। চিঠি রেজিস্ট্রি করতে আসা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন চিত্র চলছেই প্রধান ডাকঘরে। ডাকঘরের স্টাফরাও এমন ঘটনায় চরম বিরক্ত।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাকঘরের একাধিক স্টাফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা থেকে শত শত মানুষ প্রধান ডাকঘরে এসে জড়ো হচ্ছেন। অসহায় এসব মানুষের অধিকাংশই সরকারের বিভিন্ন সুবিধা পান। কিন্তু এই অর্থ নগদে চলে আসায় এর কোড ভুল হয়েছে অনেকেরই। যেকারনে মানুষগুলোর কস্টের শেষ নেই। তারা বলেন, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির এমন সেবায় ডাকঘরের কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ এবং বিবৃত। যে কেউ এসে প্রধান ডাকঘরের এমন বিশৃংখল পরিবেশ দেখে হতাশ হচ্ছেন।


এব্যপারে বরিশাল প্রধান ডাকঘরের প্রধান পোস্টমাস্টার মো: আবুল হোসেন মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, নগদ এর ৬ জেলায় লেনদেন করার জন্য মাত্র ১জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেকারনে এই ভোগান্তির সৃস্টি হয়েছে। হাজার হাজার সুবিধাভোগী নগদ গ্রাহকের জন্য বিভাগে মাত্র ১জন কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তিনি নগদ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার কথা বলে বরিশালে দুর্ভোগ লাঘবে জনবল বৃদ্ধির অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কর্নপাত করছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *