প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে কাবুলে বোমা হামলার ভয়াবহতা

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক : তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তান পুনর্দখলের কিছুদিনের মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শক্তিশালী দুটি বোমার বিস্ফোরণে ইতিমধ্যে নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক ছাড়াও মার্কিন সেনা ও তালেবানও রয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েক শতাধিক। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে কাবুল বিমানবন্দর।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া দেশত্যাগে ইচ্ছুক হাজারো মানুষের ভিড়ে ছিলেন একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সাবেক এই কর্মী। তার হাতে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিবাসন ভিসা।
গতকাল তার দিনটি একটু আগেই শুরু হয়েছিল।

আশায় ছিলেন, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ পেরিয়ে উঠবেন তার জন্যে নির্ধারিত উড়োজাহাজে। অবশেষে আসবে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ধীরে ধীরে কাবুলের আকাশ ছাড়বে সেই উড়োজাহাজ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বিমানবন্দরের অ্যাবে গেটের কাছে লাইনে তিনি প্রায় ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিলেন। তখন (স্থানীয় সময়) বিকাল ৫টা ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে বিমানবন্দর।
তিনি বলেন, মনে হলো আমার পায়ের নিচে থেকে কেউ মাটি সরিয়ে নিয়েছে। হঠাৎ মনে হলো কানের পর্দা ফেটে গেছে। আমি কিছুই শুনতে পারছিলাম না।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্লাস্টিকের ব্যাগ যেমন করে বাতাসে উড়ে যায় তেমন করে মানুষের শরীর ও হাত-পা উড়ে যেতে দেখলাম। এ জীবনে কেয়ামত দেখা হবে না। কিন্তু, আজ নিজের চোখে যা দেখলাম তা যেন কেয়ামতের মতোই। আহত-নিহতদের দেহ রাস্তায় ও পাশের নালায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। নালায় সামান্য পানি রক্তে ভরে উঠেছিল। শারীরিকভাবে আমি ঠিক আছি। কিন্তু, যে ভয়াবহতা চোখের সামনে দেখলাম তা আমাকে কোনো দিন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে দেবে বলে মনে হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *