ইউএনও বাসভবনে হামলার মামলায় আ’লীগের ১২ নেতাকর্মীর জামিন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলায় কারাগারে থাকা ১২জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী সকলের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালতে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত রোববার আসামীদের জামিন আবেদন করা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানীর দিন ধার্য্য রেখেছিল আদালত।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, দুই মামলার মোট গ্রেফতার হয়েছিল ২১ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী। অপর ৯ জনের জামিন মঞ্জুর হয় গত ২৫ আগষ্ট। বৃহস্পতিবার অবশিষ্ঠ ১২ আসামীকে আদালতকে জামিন দিয়েছেন।
তালুকদার মো. ইউনুস আরো বলেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছে- দুই মামলার পুলিশী প্রতিবেদন দেয়ার আগ পর্যন্ত আসামীরা তার (তালুকদার মো. ইউনুস) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবলুর জিম্মায় জামিনে থাকবেন। আদালতের এ আদেশে সন্তুুষ্ট বলে জানান তালুকদার ইউনুস।
বৃহস্পতিবার জামিনপ্রাপ্ত- জামিন প্রাপ্তরা হলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, ত্রান বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, রূপাতলী বাস টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু, লিটন ঘোষ, মো. রাকিব, শুভ হাওলাদার, শাহিনুল ইসলাম শাহিন, শুভ ঘোষ, মো. অলিউল¬াহ, মিরাজ গাজী ও হারুন অর রশিদ।
উল্লেখ্য, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে সদর আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে লাগানো ব্যানার-ফেষ্টুন গত ১৮ আগষ্ট রাত ১০টায় সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে অপসারন করতে যায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল কর্মী। এসময় প্রথমে আনসার সদস্যরা ও পরে ইএনও মো. মুবিবুর রহমান বাঁধা দিলে তার বাসভবনে হামলা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা।
এর জের ধরে রাত ২টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় মোট ২১ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। দুটি মামলারই প্রধান আসামী সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। প্রশাসনের উর্ধ্বত মহলের হস্তক্ষেপে ঘটনার চারদিন পর গত ২২ আগষ্ট রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের সরকারি বাসভবনে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *