শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসালয় ও পাঠাগার বেদখল!

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সুধীর কুমার চক্রর্তীর নামে স্থাপিত দাতব্য চিকিৎসালয় ও পাঠাগার দখল করেছে একটি ভূমিদস্যু চক্র। তারা গত শনিবার (২৭ নভেম্বর) দাতব্য চিকিৎসালয় ও পাঠগারের সাইনবোর্ডসহ অন্যান্য আসবাবপত্র সরিয়ে ভবন দখল করে নিয়েছে। শহীদ সুধীর কুমার চক্রবর্তী নাতনী বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী পিতামহের (দাদা) জমিতে দুইবছর আগে দাতব্য চিকিৎসালয় ও পাঠগার স্থাপন করেছিলেন।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের প্রতিবাদে বুধবার বাসদের কয়েকশত নেতাকর্মী বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল এতে অংশগ্রহন করে সংহতি জানান।
ডা. মণীষা চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, শ্যামপুর গ্রামে তার তিন পুরুষের ভিটাবাড়ি। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগ থেকে তাদের পরিবার বরিশাল নগরীতে বাস করেন। পৈত্রিক নিবাস পাহাড়া দেয়ার জন্য যাদো আশ্রিত হিসাবে রেখেছিলেন তারাই জাল দলিল সৃষ্টি করে সাড়ে ৩ একর জমির মালিকানা দাবী করছে। এ নেপথ্যে স্থানীয় একটি শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্র রয়েছে।
মনীষা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিতামহ সুধীর কুমার চক্রবর্তীর নামে ওই বাড়িতে স্থাপিত দাতব্য চিকিৎসালয় এবং পাঠাগার দুই বছর আগে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো, বশির উদ্দিন উদ্বোধন করেছিলেন। বরিশাল নগরীর থেকে চিকিৎসকরা সেখানে গিয়ে গ্রামের সাধারন মানুষকে চিকিৎসা দিত। এছাড়া স্থানীয় দুস্থদের কর্মসংস্থানের জন্য মৎস্য ও কৃষি খামার করা হয়েছিল।
আশ্রিত ৪ ভাইয়ের পরিবার সেখান থেকে সরিয়ে ভিন্ন জায়গায় পূনর্বাসনে তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও চলছিল। তদের মধ্যে দুইভাই মানিক গাজী ও মজিবর গাজী গোপনে জাল দলিল সৃষ্টি করে আকস্মিক সাড়ে ৩ একর জমির মালিকানা দাবী করে। স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সহযোগীতায় গত শনিবার রাতে পাঠাগার ও দাতব্য চিকিৎসালয়ের সাইনবোর্ড ও আসবাসপত্র সরিয়ে ফেলে তারা দখল দাবী করছে।
অভিযুক্ত মানিক গাজীর মুঠোফোনে কল দেয়া হলে লামিয়া নামক নারী রিসিভ করে পুত্রবধু পরিচয় দিয়ে বলেন, তার শ্বশুর বাড়িতে নেই। লামিয়া জানান, তার মানিক গাজী তার তিন ভাই মজিবর গাজী, বাদশা গাজী ও মান্নান গাজী ৬৫ বছর যাবত এ বাড়িতে থাকছেন। তারা বাড়িটি নিলামে কিনেছেন। সেখানে কোন পাঠাগার দাতব্য চিকিৎসালয় নেই দাবী করে লামিয়া বলেন, বছরখানেক আগে ডা. মনিষা এসে বাড়িটি তাদের দাবী করেছেন। সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিনও ছিল।
এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বলেন, বাড়িটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুধীর চক্রবর্তী। মানিক গাজীসহ তার ৪ ভাই স্বাধীনতার আগ থেকে ওই বাড়িতে চক্রবর্তী পরিবারের আশ্রিত হিসাবে থাকছেন। একবছর আগে তিনি সেখানে পাঠাদার ও দাতব্য চিকিৎসালয় উদ্বোধন করেছেন। আশ্রিত ৪ পরিবারকে অন্যত্র স্থানান্তর করা নিয়েই চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি বলে চেয়ারম্যান জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে সমাধানের জন্য সুধীর চক্রবর্তীর ছেলে অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তীকে (ডা. মণীষার বাবা) অসংখ্যবার বলেছেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *