নাগরিক রিপোর্ট:
সামদ্রিক মৎস্য সস্পদ উন্নয়নে বরিশালে উপকূলের ২৯০টি গ্রামে কমিউনিটি সেভিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় বিভাগের ২৯টি উপজেলার ৩৪ হাজার জেলে সুবিধাভোগী হবেন। এ লক্ষ্য সারাদেশে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ব্যায় নির্ধারন করা হয়েছে। রোববার বরিশালে এক কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এ অবহিতকরন কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুর রাজ্জাক।
নগরীর কাশিপুরে মৎস্য প্রশিক্ষন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক কামরুল ইসলাম। তিনি এক প্রতিবেদনে জানান, সাগরে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এই সামদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে তারা কাজ করবেন। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় বরিশালে উপকূলের ২৯০টি গ্রামে কমিউনিটি সেভিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্যে ১০০ জেলে গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হবে। বরিশাল বিভাগের ২৯টি উপজেলা এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
এর মধ্যে বরিশালে ৬টি উপজেলা, ঝালকাঠী ১টি, বরগুনা ৪টি, পিরোজপুর ৫টি, পটুয়াখালী ৬টি এবং ভোলায় ৭টি উপজেলা রয়েছে। সামদ্রিক মাছ ধরার সাথে সম্পৃক্ত এসব উপজেলার প্রায় ৩৪ হাজার জেলে সুবিধাভোগী হবেন বলে তিনি প্রতিবেদনে জানান। তার তথ্যমতে, সমুদ্রের মাছ উৎপাদন, আহরন ও প্রসেসিং এ সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কিছুদিন আগে উপকূলীয় এলাকা পাথরঘাটায় গিয়ে দেখা গেছেন পলিথিনে ভরা উপকূল। তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্রসীমা বেড়েছে। ব্লু ইকোনোমির সুবিধা নিতে সামদ্রিক মাছের আহরনে সচেস্ট হতে হবে। ইলিশসহ মৎস্য সস্পাদ রক্ষা কেবল মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের নয় বলে তিনি মনে করেন।
কর্মশালার বিশেষ অথিথি মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, সমুদ্রের মোহনায় নাব্য সংকট। যেকারনে ইলিশ ঢুকতে প্রতিবন্ধকতার সৃস্টি হচ্ছে। ইলিশ ডিম দেয়ায় এখন জাটকা নিধনে মহোৎসব চলছে। তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ ইলিশ বরিশাল অঞ্চলের। সংরক্ষন না করলে ইলিশসহ মৎস্য সম্পদ এক সময় হারিয়ে যাবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ গ্রীন ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষক ড. মো: ওয়ালিউর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জিব সন্যামত, মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
