বরিশালে করোনা সংক্রমন বেড়ে তিনগুন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
ফের বিধিনিষেধ আরোপ হলেও বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন লক্ষন দেখা যায়নি। পরিবহন বাস ও লঞ্চে যাত্রী ভীড় ছিল আগের মতই। যাত্রীরা নামেমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন। নগরে তিন চাকার যানবাহনেও যাত্রী ছিল আগের মতই। মার্কেটগুলোতেও ক্রেতার ভীড় কমেনি এতোটুকো। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশালে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তিন বেড়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। এ অবস্থায় ১১ দফা বিধিনিষেধ মানানোর জন্য প্রশানকে মাঠে নামার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। কিন্তু সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেকটা ঢিলেঢালা অবস্থা। বৃহস্পতিবার নগরীতে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার মাস্ক বিতরনকালে আসপাশে অসচেতন মানুষের ভীড় দেখা গেছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ৬ জানুয়ারী বিভাগের ছয় জেলায় ১২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ২৩। গতকাল শনাক্তের হার দাড়ায় ৯ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ এক সপ্তাহে শনাক্তের হার বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৩ ভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪ জন। নমুনা পরীক্ষা করা ১৪৫ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা: হুমায়ুন শাহিন খান বলেন, বিভাগে করোনা বেড়েই চলছে। গত সপ্তাহে আক্রান্ত ১ সংখ্যায় ছিল। এখন দুই সংখ্যায় চলে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪জন। এর মধ্যে বরিশালে সবচেয়ে বেশি। এর আগে বুধবার ১১জন এবং মঙ্গলবার ৯জন ছিল বলে পরিচালক ডা: হুমায়ুন নিশ্চিত করেছেন।

তার দেয়া তথ্যমতে, গত ৪ অক্টোবার বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫জন। আগেরদিন ছিল ৩জন। তবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বরিশাল বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল শুন্যের কোঠায়। ডা: হুমায়ুন বলেন, করোনা সংক্রামন বাড়লেও মানুষ বিধিনিষেধ মানছে না। মানানোর জন্য প্রশাসনকে মাঠে নামতে হবে।

শেবাচিম হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা জাকারিয়া খান স্বপন বলেন, গত এক সপ্তাহে এ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুই জন মারা গেছেন। সর্বশেষ একজন মারা যান গত বুধবার।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাওয়া বাস যাত্রীতে কানায় কানায় পরিপূর্ন। থ্রী হুইলারেও যাত্রী ঠাসা। কিন্তু অধিকাংশের মাস্ক নেই। এর আগে বেলা ১টার দিকে নগরের চৌমাথা গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বসা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। সেখানে একের পর এক আসা মাহিন্দ্রা ও অটোরিকশায়ও স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের একই চিত্র দেখা গেছে।

প্রথমদিনে বরিশাল নৌবন্দরে বিধিনিষেধ মানার দৃশ্য চোখে পরেনি। আগের মতই যাত্রীদের মধ্যে ঢিলেঢালা স্বাস্থ্যা সচেতনতা। যেসব যাত্রী মাস্ক ব্যাতীত লঞ্চে উঠতে যাচ্ছে তারা নানা অযুহাত দেখাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এমন একাধিক যাত্রীকে মাস্ক ছাড়া লঞ্চে দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ এর বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তারা তদারকি করেছেন। ঢাকা-বরিশাল রুটে গতকাল ৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এগুলো হচ্ছে- এ্যাডভেঞ্চার ৯, কুয়াকাট-২, পারাবাত-১২, পারাবত ১০, সুন্দরবন-১১, সুরভী-৯। তিনি বলেন, শনিবার থেকে হয়তো অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়তে হবে। তবে এ বিষয়ে দপ্তরিক চিঠি পাননি।

এ প্রসঙ্গে লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সরকারের জারি করা ১১দফা বিধিনিষেদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে লঞ্চগুলোতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন না লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা। তিনি বলেন, লঞ্চে যাত্রীদের মাস্ক বাধ্যতামুলক এবং হ্যান্ড সেনিটাইজার রাখছেন তারা। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়ার সরকারী নির্দেশও তাদের মানতে হবে। কবে থেকে এটি মানা হবে এ প্রসঙ্গে লঞ্চ মারিক নেতা রিন্টু বলেন, নির্দেশনা তো আজকে থেকেই। কিন্তু লঞ্চে এখন অর্ধেক যাত্রীও হয় না।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা লঞ্চ যাত্রীদের মাস্ক ব্যাবহার নিশ্চিতের চেস্টা করছেন। এজন্য একটি টিম দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সস্মুখে মাস্ক বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। বিতরনকারলে আসপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়। তিনি সাধারনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা শুরুতেই কারো প্রতি আইন প্রয়োগ করে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই না। প্রথমে প্রচার-প্রচারনা করা হবে।’ তিনি বলেন, যারা মাস্ক ব্যবহার করবেন না তাদেরকে কোন সেবা দেয়া হবে না। মাস্ক বিতরনকালে মানুষের ভীরে স্বাস্থ্যবিধি ব্যাহত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *