নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা এবং আইনশৃংখলা সভায় অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের অকে কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন না। আবার কেউ কেউ প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের দায় এড়িয়ে যান। এতে দপ্তরের অগ্রগতি ও উন্নয়নর জবাবদেহিতা থাকছে না। বৃহস্পতিবার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় অনেক জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সভার সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আগামী সভায় উপস্থিত না থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অবহিত করারও সিদ্ধান্ত হয়। প্রসঙ্গত, বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন সরকারী ২৫টি দপ্তরের কার্যক্রম রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্ট্।ু সভায় সদর উপজেলা ১০ ইউনিয়নের মাত্র ৪জন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। মৎস্য, কৃষি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমবায়সহ অনেক দপ্তরের কর্মকর্তাও সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। কেন জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা সভায় আসেন না তা জানতে চেয়ে সভাপতি রিন্টু প্রথমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উন্নয়ন সভায় সমবায় কর্মকর্তা না এসে প্রতিনিধি পাঠানোর কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউএনও মনিরুজ্জামান। তিনি ওই দপ্তরের প্রতিনিধিকে জানিয়ে দেন পরবর্তী সভায় যেন সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা থাকেন। ইউএনও সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা না আসলে কেন বিভিন্ন দপ্তরের ফাইলে তিনি সাক্ষর করবেন। সকল দপ্তরের অগ্রগতি, উন্নয়নের জবাবদেহিতা থাকা দরকার। পরবর্তী সভায় না থাকলে লিখিতভাবে স্ব স্ব মন্ত্রনালয়ে জানানো হবে বলে ইউএনও মনিরুজ্জামান জানান।
জানতে চাইলে বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ১০ জানুয়ারী তার উপজেলার মাসিক আইনশৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে একজন মাত্র ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। অনেক দপ্তরের কর্মকর্তাও ছিলেন না। বৃহস্পতিবারের উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন। কেন আসেন না তা তিনি জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, সভায় কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকলে ওই দপ্তরের সমস্যা বোঝার উপায় থাকে না। উন্নয়ন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামীতে বিষয়টি কঠোরভাবে নজর দিবেন। যারা না আসবে তাদের সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ে লিখিত জানাবেন। বিধি অনুযায়ী পরপর ৩টি সভায় না আসলে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আছে বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান রিন্ট্।ু
রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার বাবু বলেন, গতকালের সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ৪জন ছিলেন। কর্মকর্তা কারা কারা ছিলেন না তা জানা নেই। তাদের না আসা প্রসঙ্গে বলেন, অনেকের বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানে দাওয়াত থাকে। করোনা আসছে তাই পরিবারের সন্তানরা হয়তো বেড়াতে গেছে তাদের আনতে হয়। এইসব ব্যস্ততার কারনে জনপ্রতিনিধিরা আসতে পারেন না।
এব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, যারা সভায় থাকছেন না তাদের থাকতে হবে। তিনি সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন। যারা মাসিক সভায় আসছেন না তাদের বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘এগুলো কথার কথা।’
