নাগরিক রিপোর্ট : মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শহর ঘেষে প্রবাহিত খাল খননে ঝুঁকিতে পড়েছেন কমপক্ষে ৭ ভবন মালিক। খনন কাজ শুরুর পর পরই ছোট-বড় ৭টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবন মালিকদের অভিযোগ- অপরিকল্পিত খনন করায় আশপাশের ভবনগুলো ঝুকিতে পড়েছে। অপরদিকে খনন যথাযথভাবে না হওয়ায় স্থানীয় পাতারহাট বন্দর বনিক সমিতি ও মাঝি-মাল্লারা গত শুক্রবার খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উদ্যেগে পাতারহাট লঞ্চঘাটে মাসকাটা নদীর উৎসমুখ থেকে পাতারহাট বন্দরে দিকে প্রবাহিত খালটির ৭ কিলোমিটার খননের উদ্যেগ নেয় প্রায় আড়াই বছর আগে। এটি পাতারহাট বন্দরে পণ্যবাহি নৌযান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ন একটি খাল। কয়েকবছর আগে নাব্য হারিয়ে শুস্ক মৌসুমে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে।
প্রকল্পের আওতায় গতবছর কিছু অংশ খনন করা হয়েছিল। এরপরে পানি নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় খনন বন্ধ রাখা হয়। প্রায ১০ দিন আগে ২ কিলোমিটার ২৬৭ মিটার খনন কাজ পূনরায শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তারা ভেকু মেশিন দিয়ে খালের মাটি কাটছে। এরইমধ্যে সেখানকার ৫টি পাকা ভবনে ফাটল এবং ২টি দ্বিতল ভবনে ফাটলসহ হেলে পড়েছে বলে ভবন মালিকরা দাবী করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ ভবনগুলো হচ্ছে- খাল সংলগ্ন সাবেক কাউন্সিলর আনিচুর রহমান জমাদ্দারের দ্বিতল ভবন, বিজয় কর্মকারের ভবন, বেল্লাল ফরিয়াদির দোকানঘর, আসলাম মিয়ার লেপতোষক তৈরী প্রতিষ্ঠান ভবন, আল আমিন জমাদ্দারের ফাস্টফুডের দোকান, দ্বিমান কর্মকারও ফারুক ফরিয়াদির আধাপাকা দোকানঘর।
ক্ষতিগ্রস্থ ভবন মালিক সাবেক কাউন্সিলর আনিচুর রহমান জমাদ্দার বলেন, এক সপ্তাহ আগে খাল খনন শুরু হয়। সরুভাবে খনন করায় দুপাশের স্থাপনা ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তার দ্বিতল ভবনে রোববার ফাটল ধরছে, হেলেও পড়ছে। তার ভাড়াটিয়ারা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। বন্দর সংলগ্ন এমন ৭টি ছোট বড় একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি এ ঘটনা ঠিকাদার, পাতারহাট বন্দর বনিক সমিতি ও পৌরসভার মেয়রকে অবহিত করেও সুরহা পাননি।
ক্ষতিগ্রস্থ অপর ভবন মালিক আসলাম মিয়া বলেন, খনন শুরুর পর থেকেই সেখানকার ৭টি ভবনে ফাটল ধরেছে। আশপাশে আরও ১২টি ভবন ঝুকিতে আছে। তিনি বলেন, খনন শুরুর আগে প্রশাসন বা ঠিকাদার তাদের সতর্ক নোটিশ দেয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সিকদার কনষ্ট্রাকশন নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খনন কাজটি পেলেও এর সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মাহেব হোসেনও জড়িত। আবুল হোসেন বলেন, মাহেব হোসেন তার ব্যবসায়ীক সহযোগী। খননের কারনে কিছু ভবনে ফাটলের অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল হোসেন বলেন, ভবন মালিকরা ক্ষতিপুরন নেয়ার ধান্ধায় এসব বলছেন। তিনি দাবী করেন, খালের জমি দখল করে অনেকে ভবন করেছেন। বন্দরের ব্যবসায়ী ও মাঝি-মাল্লারা খালের প্রসস্থতা বাড়ানোর জন্য বলায় গত ১১ ফেব্রুয়ারী থেকে খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান ঠিকাদার আবুল হোসেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মাহেব হোসেন সরদার এ প্রসঙ্গে বলেন, অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মান করলে ফাটল ধরতেই পারে। এ বিষয়ে আমাদের কোন ব্যবস্থা নেয়ার কিছু নেই।
পাতারহাট বন্দর বনিক সমিতির সভাপতি এসহাক খান বলেন, খালপাড়ের কয়েকজন ভবন মালিক তার কাছে ভবনে ফাটল ধরার অভিযোগ করেছেন। এসাহাক বলেন, খননেও অনিয়ম হচ্ছে। সরুভাবে খনন করা মাটি খালের পাশেই রাখা হচ্ছে। এতে জোয়ার এলেই মাটি পুনরায় পড়ে গিয়ে খালটি ভরাট হবে। সরু খালে পণ্যবাহি নৌকাও চলতে পারবেনা। এসব আপত্তি থাকায় ব্যবসায়ীরা খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন বলেন, খালের পাশে বেশীরভাগ স্থাপনা অবৈধ। সেগুলোর ভীতও শক্ত নয়। সেগুলোর ক্ষতি হতে পারে। প্রকৌশলী বলেন, বন্দরের ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝি-মাল্লাদের আপত্তি থাকায় খনন কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ বুধবার বরিশাল থেকে প্রকৌশল টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
এব্যপারে মেহেন্দীগঞ্জের ইউএনও মো: নুরুন্নবী বলেন, খননের পর খালের পাশে কয়েকটি ভবন ফাটল ধরার অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তবে ভূক্তভোগীরা কেউ তার কাছে যাননি। ইউএনও বলেন, খনন কাজ শুরুর আগেই তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকার কথা বলেছিলেন। তখন প্রকৌশলী তাকে জানিয়েছেন, খননের সঙ্গে একটি গাইড ওয়ালের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্ত প্রকল্প কার্যালয় থেকে গাইড ওয়াল বাদ দেয়া হয়েছে। ইউএনও’র মতে, গাইড ওয়াল না থাকায় আশপাশের ভবন ঝুকিতে পড়েছে। তাছাড়া খনন শুরুর আগেই মাপঝোক করে দখলদার ও রেকর্ডীয় জমির মালিক চিহিৃত করা উচিত ছিল। ইউএনও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাল খননের ছবি তিনি দেখেছেন। এধরনের খনন কোন উপকারে আসবেনা। ##
২০২২-০২-১৬
