বরিশাল আ’লীগ: প্রশ্নবিদ্ধ ‘অনুপ্রবেশকারী’ তালিকা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও আতংক বিরাজ করছে। কাদের নাম আসছে এই তালিকায় এ নিয়ে উৎকন্ঠার শেষ নেই। অবশ্য শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি তালিক নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই তালিকায় জেলার ২৩১জনকে অনুপ্রবেশকারী দেখালেও এর মধ্যে একটি উপজেলা থেকেই ২ শতাধিক নাম রয়েছে। তালিকায় নগরীসহ সদর উপজেলা থেকে মাত্র ৬জনকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। আ’লীগের পোড় খাওয়া একাধিক নেতা মনে করেন, অনুপ্রবেশকারীরা নানাভাবে দলে কর্তৃত্ব খাটাচ্ছে। এ সুযোগে অনুপ্রবেশকারীদের পুনর্বাসনেরও আশংকা করেছেন তারা। এদিকে বরিশাল জেলা ও মহানগর আ’লীগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা কেন্দ্র থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা হাতে পাননি।
সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে বরিশাল আওয়ামী লীগে আলোচনা সমালোচনা চলছে। চলমান কাউন্সিলকে ঘিরেও এ নিয়ে ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে নেতারা প্রকাশ্যে কথা বলছেন। এমনকি কেন্দ্র থেকেও কমিটি গঠনে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য চিঠি দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক সম্প্রতি তৃনমুলের অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রেরনের কথা প্রকাশ করলে এ বিষয়টি এখন আলোচনার মুখ্য বিষয়ে পরিনত হয়েছে। কে অনুপ্রবেশকারী, এর সংখ্যাই বা কত, মুখ চেনা অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকায় আসছে কিনা এমন নানা জল্পনা কল্পনা চলছে বরিশাল আ’লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে।
এরই মাঝে শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের অনুপ্রবেশকারীদের একটি কথিত তালিকা প্রকাশ পায়। ওই তালিকায় বিভাগে ৪৩৩ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় রয়েছে ২৩১জন। এর মধ্যে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার রয়েছে ২ শতাধিক অনুপ্রবেশকারীর নাম। বাকি ৯টি উপজেলা থেকে মাত্র ৩০জনের নাম রয়েছে। বরিশাল মহানগর ও সদর উপজেলায় রয়েছে মাত্র ৬জনের নাম। যার মধ্যে একজন কাউন্সিলরও রয়েছেন।
জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসাইন বলেন, এ ইস্যুটিকে নিয়ে এখন অস্বস্তিতে পড়েছেন আ’লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, অবশ্যই মহানগরে অনুপ্রবেশকারী আছে। তারাই তো দলে অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব খাটাচ্ছে। যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের তালিকা প্রকাশ করা হোক। না হলে তারা এই সুযোগে পুনর্বাসিত হতে পারে। এজন্য সাধারন নেতাকর্মীরা যাতে হয়রানী না হয় বলে তিনি আশা করেন।
নগর আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, অস্বস্তি যা ঘটানোর তা ঘটিয়েছে অনুপ্রবেশকারীরা। আমরা অনুপ্রবেশকারীদের বিষয় এখন সচেতন। তবে এই তালিকায় করা আছে তার অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর আ’লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, মাত্র একজন নয়, নগরীর ৪ থেকে ৫জন কাউন্সিলরই অনুপ্রবেশকারী। এমনকি সদ্য ঘোষিত ওয়ার্ড আ’লীগের এক সম্পাদকও অনুপ্রবেশকারী বলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নগর আ’লীগেও কয়েকজন চিহিৃত অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। তারা এবার পুনর্বাসিত হলে দল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ওই নেতা জানান।
জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এ কে এম জাহাঙ্গির বলেন, তিনি শুনেছেন যে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও হাতে পাননি। এই ইস্যু নিয়ে দলে অস্বস্তি থাকতেই পারে। তবে আমরাও জানি করা অনুপ্রবেশকারী। এজন্য ওয়ার্ডগুলোর কমিটি গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে। সদ্য ঘোষিত একটি ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক অনুপ্রবেশকারী এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে এধরনের অপপ্রচার চালছে। কিন্তু সে ছাত্রলীগ করে এসেছে। নগরীর অনেক বিএনপি ঘরানার কাউন্সিলর এখন আ’লীগ নেতা এ প্রসঙ্গে এ্যাড. জাহাঙ্গির বলেন, ‘এক সময় তো সবাই বিএনপি করতো। ৭৯’ সালে আমরা হাতে গোনা ১০জনে আ’লীগ করতাম। তাদের কয়েকজনে মারাও গেছেন।’
এদিকে জেলার ১০ উপজেলায় অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের একাধিক আ’লীগ কর্মী জানান, অনুপ্রবেশকারী তালিকা নিয়ে অনেকেই আতংকে আছে। এই সুযোগে মুল অনুপ্রবেশকারীরা ফসঁকে যাওয়ারও আশংকা করেছেন অনেকে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা এখনও হাতে পাইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া একটি তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারা এরা তা তার জানা নেই। দেখে যাচাই বাচাই করতে হবে। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা নতুন কমিটিতে স্থান পাবে না। এক্ষেত্রে প্রকৃত নেতাকর্মী যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সে বিষয়টিও দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *