সৈয়দ জুয়েল। শনিবার মধ্যরাত থেকে ঘূর্নিঝড় বুলবুলে নগরবাসী পরেছে নানান ভোগান্তিতে। বিশেষ করে বিশুব্ধ পানি সংকট ছিল চরমে। পানির জন্য এ হাহাকার এবার মানুষ উপলব্দি করেছে হারে হারে। ৫৮ কি:মি আয়োতনের সিটি কর্পোরেশনে পানি সংকটের এ সমস্যা, যতই দিন যাচ্ছে, ততই প্রকট হচ্ছে।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়-শহরের কয়েক কিলোমিটার পর পর সড়কের পাশে সাপ্লাই পানির কল ছিল, যা থেকে পানির চাহিদার সাধারনের অনেকাংশে মিটতো। তখন পানির জন্য হাহাকার ছিলনা। সড়কের পাশের জনগনের সেই কলগুলো নানা কারনে এখন আর নেই। পুকুর, খাল ভরাট হওয়াও পানি সংকটের জন্য কম দায়ী নয়। অথচ পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যার এ সিটি কর্পোরেশনটির জনগনের পানির অভাব মেটার কথা ছিল সবচেয়ে বেশি।
উপজেলাগুলোতে যে রকম ৮-১০ টি বাড়ি থাকলেই তারা টিউবওয়েল পেয়ে যান কোন ধরনের ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই। এমন দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে বিসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে কয়েকটি গভীর চাপ কল স্থাপন জরুরী। টিউবওয়েল বসানো হলে নগরবাসীর পানির সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা।
১৭ বছরের সিটি কর্পোরেশনটিতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে বহুতল ভবন তৈরীর হিড়িক। প্রায় প্রতিটি ভবনেই সাবমার্শিবলের সাহায্যে তলদেশ থেকে পানি তুলে থাকেন, যার দ্বারা ভূ-গর্বস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে দ্রুত। এই বুলবুলই শেষ বুলবুল নয়। আগামী বছর এমন দুর্ভোগ পোহাতে হবে না, তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। পরিকল্পিত নগরী গঠনে তাই নগরীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনস্বার্থে গভীর নলকুপ স্থাপন করে বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা করা এখন সময়ের দাবী।
২০১৯-১১-১২
