নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের গৌরনদীতে বিদ্যালয়ে পাঠদানকালে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ও গরুর মাংস খাওয়া হারাম মন্তব্য করার অভিযোগে উজ্জল কুমার রায় (৪৭) নামের এক সহকারী শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে গ্রামবাসী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। রোববার রাতে উপজেলার মেদাকুল বাজারে গনধোলাইর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে গ্রামবাসী সোমবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এদিকে কটুক্তি করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক উজ্জল কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত উজ্জল উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুল বিএমএস ইন্সটিটিউশনের সহকারী শিক্ষক ও সমরসিংহ গ্রামের প্রফুল্ল রায়ের পুত্র।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার, সাকিব মোল্লা, সৌরভ হাসান অভিযোগ করে বলেন, রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দশম শ্রেনীর ২য় ক্লাসে বিজ্ঞান পড়াতে আসেন সহকারী শিক্ষক উজ্জল কুমার রায়। স্যারে বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাসে খাদ্যে আমিষ নিয়ে পাঠদানের সময় বলেন, আলেম-ওলামাদের দিয়ে গরু কেটে মাংস খাওয়াটা ভন্ডামী। কচ্ছপ খাওয়া উত্তম, গরু খাওয়া হারাম। হুজুররা অপদার্থ। ওই শিক্ষক পাঠাদানের সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কয়েকজন বিক্ষুব্ধ অভিভাবক জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী শিক্ষক উজ্জল কুমার রায় রোববার রাতে মেদাকুল বাজারে আসলে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে (উজ্জল) গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে গৌরনদী থানা পুলিশ ওইদিন রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষুব্ধ ২ শতাধিক গ্রামবাসী সোমবার মোদাকুল বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইল্লা-বাকাই সড়ক ধরে বাকাই বাজারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটর সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান মিজান জানান, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক উজ্জল কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল আহাদকে আহŸায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে ম্যানেজিং কমিটির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জল কুমার রায় থানা হাজতে সাংবাদিকদের বলেন, একটি কুচক্রি মহল আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এব্যপারে গৌরনদী থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, খবর পেয়ে রোববার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই শিক্ষককে ৫৪ ধারায় বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান।
২০২০-০৩-০৯
