বরগুনা প্রতিনিধি : করোনায় আক্রান্ত স্বামীকে সেবা দিতে তার সঙ্গে হাসপাতালের আইসোলেশনে কাটিয়েছেন ১৭দিন। স্বামীর প্রতি এমন ভালবাসায় আসক্ত স্ত্রীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন চিকিৎসকরা। সব ভয়কে জয় করে নিজেকে সুস্থ্য রেখে করোনাজয়ী স্বামীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন স্ত্রী রোজিনা বেগম। এতে হতবাক হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকারা। বরগুনার আমতলী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
রোজিনা বেগম ওই উপজেলার কৃঞ্চনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান ভূইয়ার স্ত্রী।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক মো. হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া গত ১৬ এপ্রিল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। গত ১৮ এপ্রিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠায়। ২১ এপ্রিল পাওয়া প্রতিবেদনে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হন।
হাবিবুর রহমানকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের আইশোলেশনে নেয়া হলে তার স্ত্রী রোজিনা বেগম স্বামীর সেবাদিতে তার সঙ্গে থাকার আবদার করেন। চিকিৎসকদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রোজিনা ১৭ দিন আইসোলেশনে থেকে স্বামীর সেবা করেছেন। তার সঙ্গে একই বিছানায় শুইয়েছেন। উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা রোজিনা বেগমের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইডিসিআরে পাঠান। পর পর তিনবার স্বামী ও স্ত্রীর রিপোর্ট নিগেটিভ আসায় তারা করোনাভাইরাসমুক্ত হিসেবে চিহিৃত হন। শনিবার দুপুরে হাসপাতাল কতৃপক্ষ হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বিদায় জানান। এসময় তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী রোজিনা বেগমও আইসোলেশনে অবস্থান করে একই বিছানায় থেকেছেন। তারপরও স্ত্রী করোনামুক্ত। এটা আর্শ্চচের বিষয়।
এ চিকিৎসক কর্মকর্তা বলেন, হয়তোবা রোজিনা বেগমের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, তাই এমনটা হয়েছে।
স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে স্বামীর সেবা করেছি। আমার কিছু হয়নি।
করোনাভাইরাসে জয়ী হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, আল্লায় বাঁচাইছে। এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। ডাক্তার ও নার্সদের সেবার পাশাপাশি আমার স্ত্রী আমার পাশে থেকে সার্বক্ষণিক আমার সেবা করেছে।##
২০২০-০৫-০৪
