মেঘনায় বিলীন আশ্রায়ন প্রকল্প

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: সর্বনাশা মেঘনা ৮০টি হতদরিদ্র দিনমজুর পরিবারের জীবনচিত্র পাল্টে দিয়েছে। ভূমিহীন এ মানুষগুলোর ঠিকানা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সেনাবাহিনীর বাস্তবায়ন করা বরিশালের মেঘনা ঘেরা হিজলা উপজেলার ধুলখোলা আশ্রয়ন প্রকল্পে। রাক্ষুশী মেঘনার ভাঙ্গন তাদের সেই ঠিকানা ইতোমধ্যে কেড়ে নিয়েছে। আর কোনদিন স্থায়ী ঠিকানা পাবেন কি-না তাও পুরোপুরি অনিশ্চিত পরিবারগুলো।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, আশ্রায়ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থার ছবি এবং পত্র লিখে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা আশ্রায়ন প্রকল্প দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে। তিনি নিজে ফোনেও ভাঙ্গনের বিষয়টি অবহিত করেছেন। দ্রæত পাউবো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, একবছর আগে ৮০টি ভূমিহীন পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছিল বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের কুঞ্জেরহাট আশ্রয়ন প্রকল্পে। মেঘনার ভাঙ্গনে এরই মধ্যে ৩৫টি পরিবার তাদের বসতঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা এখন ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাসজমি ও কিম্বা অন্যের জমিতে কোনরকম বসবাস করছেন। চলমান নদী ভাঙ্গনে অন্য পরিবারগুলোকে শিগিরিই আশ্রায়ন ছাড়তে হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন অসহায় ৮০টি পরিবার।
ঠিকানা হারানো শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাতুব্বরের দয়ায় আশ্রায়নে অ্যাকটা ঘর পাইছালাম। ৬/৭ মাস থাকতে পাড়ছি, ঘরডা নদীতে ভাইঙ্গা নেছে, ঈদের আগে পরিবার লইয়া গ্যারামে আরেকজনের জাগায় থাকতেছি’। শাহজাহান আফসোস করে জানান, ভাঙ্গনের খবর জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তিনি কিছু সাহায্যের জন্য ভোটার আইডি কার্ড দিতে বলেছেন, পূনরায় ঘর পাবেন কি-না তা জানতে চাইলে ইউএনও বলেছেন, এটা উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, তিনি আপাতত কিছু সাহায্যে করতে পারবেন।

আরেক ভুমিহীন দেলোয়ার হোসেন জানান, কয়েক বছর আগে তারা মাথা গোজার ঠাই পান। তখনই মেঘনার ভাঙন ছিল কিছু দুরে। এখন তো সব নিয়ে গেছে মেঘনায়। তিনি বলেন, প্রকল্পটি করার সময় নদী থেকে আরও দুরে করা উচিৎ ছিল। আর আশ্রয় ফিরে পাবেন কিজনা তা নিয়ে শংকিত দেলোয়ার।

ধুলখোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও হিজলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন মাতুব্বর বলেন, ভূমিহীনদের আশ্রয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের আওতায় তার ইউনিয়নে ২০১৭ সালে ৩টি আশ্রায়ন নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কুঞ্জেরহাট আশ্রয়ন প্রকল্পটি স্থাপিত হয়েছিল বেরীবাঁধের ভেতরের অংশে। তখন নদীর দুরত্ব ছিল কমপক্ষে ১ কিলোমিটার দুরে। গত এক বছরে মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনে বেরীবাঁধ তছননছ হয়ে আশ্রায়নের ১৬টি ব্যারাকের (প্রতিটি ব্যারাকে ৫টি পরিবার থাকার ব্যবস্থা) মধ্যে ৭টি ব্যারাক মেঘনায় বিলীন হয়েছে। বাকি ৯টিও বিলীন হওয়ার পথে।

ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি কারন হিসাবে তিনি বলেন, ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথের মিয়ারহাট চ্যানেল স্বাভাবিক করার জন্য গতবছর ৯টি ড্রেজার দিয়ে খনন করা হয়। এরপরই পানির বাক ঘুরে উত্তাল মেঘনার ঢেউ আছড়ে পড়ছে ধুলখোলা ইউনিয়নের তীরে। ফলে সর্বত্র ভাঙ্গন বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *