খান রফিক:
প্রাণঘাতী করোনায় শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল রাখতে গত মে থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী বরিশাল বিএম কলেজসহ নগরীর সেরা ৪টি সরকারী কলেজে চলমান এ কার্যক্রম। শুরুর দিকে অনলাইনে পাঠদানে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনের হার ছিল গড়ে সর্বোচ্চ ৪০ ভাগের নিচে। গত কয়েক মাসে আগ্রহে ভাটা পড়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি গড়ে ২০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারন হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়াকেই দায়ী করেছেন সংশ্লিস্টরা। নগরীর বিভিন্ন সরকারী কলেজের শিক্ষকগন এ কার্যক্রমকে মন্দের ভাল দাবী করে বলেছেন, জাতীয়ভাবে সহায়তা ছাড়া অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা সম্ভব নয়।
বরিশাল বিএম কলেজের অনলাইন ক্লাস কমিটির আহবায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান খান বলেন, গত জুন থেকে কলেজে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। ক্লাসের গত ২৯ আগস্টের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী তার কলেজে গড়ে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপস্থিতির হার ১০ থেকে ১৫ ভাগ। পরবর্তীতে ওই ক্লাস দেখেছে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ শিক্ষার্থী।
এর আগে গত ১৩ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ১৮ থেকে ২০ ভাগ। ওই সময়ে ক্লাসগুলো পরবর্তীতে দেখছে ৪০ ভাগের নিচে। তিনি বলেন, ক্রমন্বয়ে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির হার কমে যাচ্ছে। কারন হিসেবে তিনি মনে করেন, তথ্য তথ্যপ্রযুক্তির অপ্রতুলতা(মোবাইল, ইন্টারনেট), দারিদ্রতা, ইন্টারনেটের মুল্য, জাতীয় পর্যায় থেকে সাপোর্ট না থাকা। সোমবার অনলাইনে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে গতি বৃদ্ধির তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষা কার্যক্রম নির্দিস্ট ট্রাকে রাখাতে তারা যে আশাবাদী ছিলেন সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সাড়া পাওয়া যায়নি। তার বিভাগে অনলাইন ক্লাসে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ না থাকায় উপস্থিতির হার গত ২ মাসেও বাড়েনি। এটা মন্দের ভাল বলে দাবী করেন তিনি।
এদিকে সরকারী বরিশাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, তার কলেজে গত মে থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরুর জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফোনে ক্লাস করার আহবান জানানো হয়। অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাস্তব অবস্থা হচ্ছে যাদের জন্য কস্ট করা হচ্ছে সেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নগন্য। মাত্র ১৫ থেকে ২০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়। তাও ক্রমশ কমছে। তিনি এজন্য অভিভাবকদের দায়ী করে বলেন, অভিভাবকরা সচেতন না হওয়ায় অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। অধ্যাপক নাসির ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, করোনা সহসাই যাচ্ছে না। সরকারও হয়তো এই অনলাইন ক্লাসের উপর ভিত্তি করেই যে কোন সময় পরীক্ষা শুরু করতে পারে। তিনি সম্প্রতি মাউশির অনলাইন সভার বরাত দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা ক্ষীন। এ কলেজের গনিত বিভাগের প্রভাষক সাইফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ কম। কারন একটানা ক্লাস করে দৈর্য্য হারিয়ে ফেলছে তারা।
সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু: মোস্তফা কামাল বলেন, সবশেষ গত ২৭ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের হার ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ। ক্লাসে অংশগ্রহনের হার ক্রমশ কমছে। কারন হিসেবে তিনি বলেন, শিক্ষার্র্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে কৈফিয়ত কিংবা পরীক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনা দরকার। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে সাপর্ট ছাড়া কোনভাই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একই কলেজের অনলাইন ক্লাস কমিটির আহবায়ক সহকারী অধ্যাপক এইচ এম বাহাউদ্দিন বলেন, শুরুতে ক্লাসে উপস্থিতির হার ৩০ ভাগের মত ছিল। এখন ২৫ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারন আর্থিক সহায়তা না পাওয়া।
সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আসাদুজ্জামান বলেন, তার কলেজে অনার্স ছাত্রীদের উপস্থিতির হার ৩০-৪০ ভাগ। এ অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে দাবী করেন প্রফেসর মো: আসাদুজ্জামান।
এব্যপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অনলাইন ক্লাস বিষয়ে মুল্যয়নের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যাবে। সরকার চেস্টা করছেন প্রকৃত অসহয় ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকা করে সহায়তা করতে। বিশেষ করে ইন্টারনেট কিংবা ডিভাইস সুবিধা দেয়ার জন্য মন্ত্রনালয় মোবাইল কোম্পানীগুলোর সাথে আলোচনা করছে। তিনিও রেজ্যুলেশনে এক্ষেত্রে লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
