নাগরিক রিপোর্ট : বিদেশ গিয়ে বা যেতে প্রতারনা কিংবা মানসিক ও শ্রম শোষনের শিকার ভূক্তভোগীরা সরাসরি মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবেন। ভূক্তভোগীরা চাইলেই তার নিজ নিজ থানায়ও মানব পাঁচার প্রতিরোধ দমন আইনে-২০১২ মামলা করতে পারবেন। ভূক্তভোগীদের আইনী প্রতিকারের জন্য ২০২০ সালের ৮ মার্চ সরকার এক গেজেটের মাধ্যমে বরিশাল সহ দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। গত ২২ মার্চ বরিশাল মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক যোগদান করার পর থেকে এখন পর্যন্ত মানব পাঁচার আইনে ১৫টি মামলা দায়ের হয়েছে।
মানব পাঁচার প্রতিরোধ দমন আইনকে যুগান্তকারী বলছেন বরিশালের বিশিস্টজনরা। এর ফলে বিদেশে যেতে কিংবা বিদেশে নেয়ার পর প্রতারনা অনেকাংশে কমে যাবে এবং অবৈধ মানব পাঁচারও রোধ হবে বলে বলে আশা তাদের।
বরিশাল মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, মানব পাঁচার সংক্রান্ত অপরাধ সমূহ মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃনতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই অপরাধের ব্যাপকতার কারনে বাংলাদেশের হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ইনডেস্ক (এইচডিআই) আন্তর্জাতিক মানদন্ডে চরমভাবে অবনমন হচ্ছিলো। এমন অবস্থায় এইচডিআই মানদন্ড স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ২০২০ সালের ৮ মার্চ সরকার এক গেজেটের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগে মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে।
গত ২২ মার্চ বরিশাল মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একজন জেলা জজ পদ মর্যদার বিচারক যোগদানের পর এখন পর্যন্ত মানব পাঁচার সংক্রান্ত ১৫টি মামলা হয়েছে। সবগুলো মামলায় বিদেশে নিয়ে বা নেয়ার কথা বলে প্রতারনার অভিযোগে দায়ের হয়েছে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, আগে বিদেশ যেতে কেউ প্রতারনার শিকার হলে ভূক্তভোগী ব্যক্তি তার নিজ থানায় নাকি রিক্রুটিং এজেন্সির এলাকাভূক্ত থানায় মামলা করবেন সেটা নিয়ে হয়রানী হতে হতো। এখন থেকে ভূক্তভোগীরা তার স্ব-স্ব থানায় কিংবা সরাসরি মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। আবার কেউ বিদেশ গিয়ে প্রতারনা কিংবা শ্রম ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে তার কোন স্বজনও চাইলে স্ব-স্ব থানা কিংবা সরাসরি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে পারবেন। এতে বিদেশে যেতে বা বিদেশ নেয়ার পর প্রতারনা এবং অবৈধ মানব পাঁচার অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করেন সিনিয়র আইনজীবী মানবেন্দ্র বটব্যাল।
বরিশাল মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. কাইয়ুম খান কায়সার বলেন, দেশের মধ্যেই অবৈধ মানব পাঁচারের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কোন স্থানে জড়ো করা হলে সংশ্লিস্ট থানা পুলিশ কোন গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই সেখানে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিস্টদের আইনের আওতায় আনতে পারবেন।
তিনি বলেন, বিদেশে গিয়ে কেউ প্রতারনা বা শ্রম ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে তার কোন স্বজন স্ব-স্ব থানা কিংবা ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবেন। এই মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তাকে শ্ব-শরীরে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে না। বিদেশে প্রতারনার শিকার ওই ব্যক্তির কোন অডিও বা ভিডিও ক্লিপ অথবা কোন লিখিত বক্তব্য সংশ্লিস্ট রাস্ট্রদূতের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হলে সেটি সাক্ষ্য হিসেবে গন্য হবে। অপরাধ দেশে হোক কিংবা বিদেশে হোক সেটি দেশেই হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। এই ধরনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে রাস্ট্রিয় খরচে সংশ্লিস্ট দেশে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করতে পারবেন। সরকারের যে কোন বিভাগের কর্মকর্তা এবং দেশে ও দেশের বাইরে রাস্ট্রায়ত্ব জাহাজ ও বিমানে কর্মরত কোন কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে মানব পাঁচার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ আইনে সহযোগীতা করতে বাধ্য। কেউ এই বিধি অমান্য করলে ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষনিক তাকে জরিমানা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেবেন বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে। মানব পাঁচার প্রতিরোধ দমন আইনে-২০১২ অপরাধ প্রমানিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর দন্ডের বিধান রয়েছে।
বিদেশে গিয়ে বা বিদেশ যেতে প্রতারনা কিংবা মানসিক ও শ্রম শোষনের শিকার ভূক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের আইনী প্রতিকারের জন্য নতুন আইনে স্ব-স্ব থানা কিংবা সংশ্লিস্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম খান কায়সার। ##
