বরিশালে লঞ্চের কেবিনে নিহত নারী যাত্রীর ঘাতক গ্রেফতার

শেয়ার করুনঃ

নাগরিক রিপোর্ট: ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহি লঞ্চ পারাবত-১১ লঞ্চের কেবিন থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত নারী যাত্রীর ঘাতককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার নাম মনিরুজ্জামান চৌধুরী (৩৪)। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকার মীরপুর-১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ইনভেষ্টিকেশন ব্যুরো (পিবিআই)। তার আগে মঙ্গলবার বিকালে ওই লাশের পরিচয় মিলেছে। বুধবার পিবিআই’র বরিশাল কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হুমায়ন কবীর।
গ্রেফতারের পর মানিরুজ্জামান দাবী করেছে, নিহত নারী জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী (২৯) তার স্ত্রী। ঢাকা থেকে এক সঙ্গে বরিশালে আসার সময় লঞ্চে ঝগড়ার এক পর্যায়ে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে লাবনীকে হত্যার পালিয়ে যায় সে।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিহত নারীর সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত হন তারা। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকার মীরপুর-১ এলাকায় দারুস সালাম প্রিন্সিপাল আবুল কালাম রোডে সরকারি আবাসিক এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।
তার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, সোমবার সকালে লঞ্চ বরিশাল নৌবন্দরে পৌছার পর লাশ কেবিনের মধ্যে রেখে লঞ্চ থেকে নেমে যায় মনিরুজ্জামান। পরে বাসে ঢাকায় চলে যায়। লাবনীর ব্যবহৃত ওড়না ও মুঠোফোনসহ অন্যান্য আলামত মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মনিরুজ্জামান পেশায় রাইড শেয়ার চালক। লাবনী তার তৃতীয় স্ত্রী। অপরদিকে লাবনীর আগেও একটি বিয়ে ছিল। লাবনী তার প্রকৃত স্ত্রী কি-না, নাকি তার সঙ্গে পরকিয়ার সম্পর্ক তা নিশ্চিত হতে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।


লঞ্চ থেকে লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন নৌ পুলিশের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা থেকে আব্দুল লতিফ মিয়া বরিশালে এসে উদ্ধার হওয়া লাশটি তার মেয়ে লাবনীর বলে শনাক্ত করেন। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দুই শিশু ছেলের জননী লাবনীর স্বামী পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান। বাবা আব্দুল লতিফ মিয়া ও মা মমতাজ চোধুরীর সঙ্গে ঢাকার পল্লবী-২ নম্বর এলাকার বাসায় থাকতেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায়। লাবনী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলো। এক ভাই তিন বোনের মধ্যে লাবনী সবার ছোট।


চাকুরীর প্রলোভনে পরে গত রোববার ঢাকার সদরঘাট থেকে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে লঞ্চযোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয় লাবনী। ওইদিন রাত ৯ টা পর্যন্ত লাবনীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার বাবার।


প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহি লঞ্চ পারাবত- ১১ এর ৩৯১ নম্বর কেবিন থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার আগেই লঞ্চ থেকে নেমে যায় ওই নারীর সঙ্গে থাকা পুরুষটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *