নাগরিক রিপোর্ট: প্রতিদিন গভীর রাতে কয়েক হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল নৌবন্দরে পৌছে একের পর এক বিলাসবহুল লঞ্চ। ওই যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছাতে নৌবন্দরের চত্বরে অবস্থান নেয় প্রায় দুইশত থ্রি-হুইলার (সিএনজি, টেম্পু ও ইজিবাইক) যানবহন। প্রতিটি থ্রি-হুইলার থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল নৌ সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তারা প্রতিরাতে প্রায় ৫ হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে যানবহন চালকদের কাছ থেকে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও এটি বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বরিশাল নৌবন্দরের কতিপয় কর্মচারীরও এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক থ্রি-হুইলার যানবহন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লঞ্চে ঢাকা থেকে বরিশালে পৌছানো যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছাতে প্রতিদিন রাত ২টার পর প্রায় ২০০ থ্রি-হুইলার বরিশাল নৌবন্দরের চত্বরে অবস্থান করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো রাত ৩টার পর পর্যায়ক্রমে বরিশাল বন্দরে পৌছায়। চালকদের কাছ থেকে পুলিশ সদস্যরা ২০ টাকা করে চাঁদা নেয়। বিআইডবিøইটএ’র কতিপয় স্টাফও এর সাথে জড়িত। চাঁদা না দিলে যানবহন রাখতে দেয়া হয়না বলে জানান চালকরা।
তবে বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশে পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছেন, থ্রি-হুইলার যানবহন চালকরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পুলিশের সদস্যরা এসবের সঙ্গে জড়িত নয়।
সরেজমিনে গত সোমবার( ১২ অক্টোবর) রাত ১২টায় নৌবন্দর গিয়ে দেখা গেছে, নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সিএনজি, মাহিন্দ্রার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। ঘটনাস্থলে বিআইডবিøউটিএর কর্মচারীও দেখা গেছে। তবে গনমাধ্যম কর্মী দেখে দ্রæত সটকে পড়ে পুলিশ সদস্য ও বিআইডবিøউটিএর কর্মচারীরা। যানবাহন চালকরা অবশ্য তাৎক্ষনিক ভয়ে মুখ খুলতে চাননি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন পরিবহন সংস্থার (বিআইডবিøউটিএ) বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী বন্দর এলাকায় যানবাহন থেকে টাকা নিলে সেটি তার দেখার বিষয় নয়। বিষয়টি দেখবে নৌপুলিশ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নৌবন্দরের পক্ষ থেকে নৌ পুলিশের সুপার বরাবর অভিযোগ দেবেন।
বরিশাল-ঢাকা নৌপথে লঞ্চের রোটেশন প্রথা বন্ধে গঠিত কমিটির সদস্য কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, প্রত্যুষে লঞ্চ থেকে নেমে সিএনজি-টেম্পুতে গন্তব্যে গেলে চড়া ভাড়া গুনতে হয়। চালকরা দাবী করছেন, তাদের বন্দরে চাঁদা দিতে হয়। তিনি বলেন, বন্দর হলো বিআইডবিøউটিএর। তাদের ঘরে কেউ চাঁদা তুললে তার দায় বিআইডবিøউটিকে বহন করতে হবে। তিনি বলেন, চাঁদার টাকা যানবহন চালকরা যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
এব্যপারে অভ্যন্তরীন লঞ্চ মালিক সমিতির সহ সভাপতি ও সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানীর স্বত্বধীকারি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, থ্রি হুইলার যানবহন রাখা হয় বিআইডবিøউটিএ’র বন্দরের জমিতে। তাদের কাছ থেকে নৌপুলিশের চাঁদা নেয়ার এখতিয়ার নেই। পুলিশ চাঁদা নিলে নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। লঞ্চ মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, চাঁদাবাজী বন্ধে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়া হবে।
