ধর্মঘটের প্রভাব: শেবাচিম হাসপাতালে দ্বিগুন রোগীর মৃত্যু

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রোববার দ্বিতীয় দিনের মত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট চলছে। তিন দফা দাবীতে তাদের ডাকা এ ধর্মঘটে চিকিৎসক সংকট তীব আকারন ধারন করেছে। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা মারাতœকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার পরিসংখ্যান মতে, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে। রোববার বিকেলে এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা: বাকির হোসেন।
তিনি বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার না হওয়ায় দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের দুর্বিসহ কস্ট হচ্ছে। শুনেছেন হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এটা হওয়াই স্বাভাবিক, কেননা ডাক্তার না থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না বলে হতাশ কণ্ঠে জানান ডা: বাকির।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে দৈনিক দেড় সহ¯্রাধিক রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু মাত্র ১ হাজার শয্য বিশিস্ট হাসপাতালে এতো রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে ডাক্তার রয়েছেন চাহিদার অর্ধেকেরও কম। বর্তমানে হাসপাতালটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯৫জন চিকিৎসক। এই সংকট কাটাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সহায়তা নেয়া হত। কিন্তু শনিবার দুপুর থেকে ধর্মঘটের কারনে চিকিৎসা সেবা অনেকাংশে থমকে গেছে শেবাচিম হাসপাতালে।


রোববার সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে জানা গেছে, চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জটিল রোগীরা। হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের একাধিক রোগী জানান, রাত থেকে কোন ডাক্তার আসেনি। নার্সরাও কাজে অনিহা দেখাচ্ছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সেবা না পেয়ে অনেক রোগী অন্যত্র চলে যাচ্ছে। রোববার দুপুরে বানারীপাড়া থেকে আসা এক রোগীর স্বজন মজিবর রহমান জানান, তার আতœীয় গুরুতর অসুস্থ। কিন্তু শেবাচিমে ডাক্তার নেই। তাই নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


শুক্রবার রাতে হাসপাতালের সার্জারী-২(পুরুষ) ওয়ার্ডে ভর্তি হন মোটরসাইকেলে গুরুতর আহত গনি সরদার। ওই ওয়ার্ডের সেবিকা পুতুন দে বলেন, মুলাদী থেকে আসা ওই রোগীকে তারা আসার পর থেকেই চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের বেশ সংকট। রাতে ১০টি রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৫জনের হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টায় রোগী গনি সরদার মারা যান। হাসপাতালের মেডিসিন (মহিলা) ওয়ার্ডে মারা যান নুর বানু নামে এক গৃহবধু। ওই ওয়ার্ড সুত্রে জানা গেছে, নুর বানু এ্যাজমা রোগী ছিলেন। তার স্বজন রমিজ আলী বলেন, তারা আগৈলঝাড়া থেকে এসেছিলেন। কিন্তু সারারাত কোন চিকিৎসা না পেয়ে ওই রোগী মারা যান।


হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় (রোববার দুপুর পর্যন্ত) শেবাচিম হাসপাতালে ১৯জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছিলো ১০জন রোগীর। এসব রোগী নানা রোগে আক্রান্ত ছিল।


এপ্রসঙ্গে হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে সাংবাদিকদের বলেন, রোগীদের জিন্মি করা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে নয়। তবে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার সহ ৩ দফা দাবি মেনে নিলেই তারা কাজে ফিরবেন।


এব্যপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা: বাকির বলেন, রোগীদের দুর্ভোগ লাগবে রোববার রাতের মধ্যেই ধর্মঘট প্রত্যাহারের চেস্টা করা হচ্ছে। তিনি এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, ডায়াগনস্টি সেন্টারের কমিশন বানিজ্য নিয়ে সম্প্রতি হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্ট্রার ডা. মাসুদ খানকে বেদম মারধর করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় ডা: মাসুদ ৮-১০জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা প্রত্যাহারসহ ডা: মাসুদের বিচার দাবীতে ধর্মঘট করে যাচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *