জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাইডেন!

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক: জয়ের দ্বারপ্রান্তে জো বাইডেন। ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা। তিনি ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন। ভোট বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন। দাবি করেছেন ভোট নতুন করে গোনার। অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি নির্বাচনী অফিসের বাইরে রাইফেল, হ্যান্ডগানসহ বিক্ষোভ করেছে তার প্রায় দুই শত সমর্থক। ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে বিভিন্ন শহরে। পুলিশ নিউ ইয়র্ক সিটি, পোর্টল্যান্ড, অরিগনে এমন বিক্ষোভ থেকে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী শতাধিক ইভেন্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব কিছু মিলে এবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তীব্র এক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগেভাগেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেছেন সবাইকে।

দোকানপাটে বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার ব্যতিক্রমী সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আগে থেকেই নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকি দেয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকটি রাজ্যের বিষয়ে।

এরই মধ্যে নির্বাচনের পরে দু’দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনা বিরল। ফল ঘোষণায় বিলম্বের কারণ হলো মেইলে পাওয়া ভোট। এগুলো গণনায় বাড়তি সময় লাগছে। এ জন্য ভোট গণনা বা ফল ঘোষণায় বিলম্ব হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে দেখছেন ‘জালিয়াতি’ হিসেবে।

অনলাইন ফক্স নিউজের হিসাবে ২৬৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে হোয়াইট হাউজের খুব কাছে চলে গেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে তার আর প্রয়োজন মাত্র ৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। যে রাজ্যগুলোতে ভোটের ফল এখন আটকে আছে, সেখানে মেইলে যারা ভোট দিয়েছেন, তার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই ডেমোক্রেট। ফলে এর মধ্যে যেকোনো একটি রাজ্যে বাইডেন বিজয়ী হলেই তার হোয়াইট হাউজের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যাবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ২১৪ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিয়ে তাকে পিছু ধাওয়া করছেন। তবে রয়টার্সের হিসাবে নেভাদা ও অ্যারিজোনায় সামান্য ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেন। অন্যদিকে পেনসিলভ্যানিয়া ও জর্জিয়াতে খুবই সামান্য ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্প এগিয়ে। নর্থ ক্যারোলাইনায়ও সামান্য ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। এসব রাজ্যের মধ্যে একটিও যদি ট্রাম্পের হাতছাড়া হয় তাহলেই জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট। এসব রাজ্য গত নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

যদি তিনি এবার সেই ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ হন তাহলে ১৯৯২ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পর তিনিই হবেন প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট, যিনি ক্ষমতায় থাকতে পরাজিত হয়েছেন। ওদিকে বুধবার বিজয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন বাইডেন। তিনি এদিন ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত হোয়াইট হাউজ মিশন পরিচালনা করার জন্য ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন।

ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে বাইডেন ২৬৪, ট্রাম্প ২১৪:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথ আরও খুলে গেছে। মিশিগান ও উইসকনসিনে জেতার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁর প্রচার শিবির থেকে ভোট গণনা নিয়ে মামলা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাইডেন বলেছেন, ‘তিনি এখনো বিজয় ঘোষণা করেননি। তবে যখন ভোট গণণা শেষ হবে তখন তাঁর বিশ্বাস যে তাঁরা বিজয়ী হবেন।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উত্তরাঞ্চলের ব্যাটল গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত মিশিগান ও উইসকনসিনে জেতার পর বাইডেনের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ২৬৪–তে পৌঁছেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ২১৪। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে প্রয়োজন ২৭০টি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে, বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যেই দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে। এএফপি বলছে, নেভাদার ছয়টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেলেই হোয়াইট হাউস জিতবেন বাইডেন। এ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এর বাইরে জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।

একদিকে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে বাইডেন তাঁর সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। জো বাইডেন তাঁর সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ট্রাম্প বা আমি নিজেকে জয়ী ঘোষণার কেউ নই। এটা আমেরিকার জনগণের সিদ্ধান্ত।’
বিজ্ঞাপন

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ভোট গণনা নিয়ে ট্রাম্পের তোলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ভোট গণনা চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের জয় দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুম থেকে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছি। এটা (ভোট গণনা) মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।’ তিনি ভোট গণনার অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়লেন মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সময় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি ভোট পেয়েছেন সাত কোটির বেশি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। তবে পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকলেও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার জন্য তা বিবেচ্য নয়। সেখানে যেতে হলে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে জিততে হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মিশিগানকে বাইডেনের বলেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এর আগে উইসকনসিনও দাবি করেছেন বাইডেন। এর পাশাপাশি অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যটিও ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। এখন হোয়াইট হাউসের চাবি তাঁর হাতের নাগালেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমাদের সিস্টেমের স্বচ্ছতার এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষতি হয়ে গেছে।’

পরাজয় আভাস পেয়ে ট্রাম্প শিবিরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সুইং স্টেট উইসকনসিনের ভোট পুনর্গণনা করার আবেদন করবে বলে জানিয়েছে তারা। আর রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়াতে ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে মামলা করেছে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা শিবির। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ অবশ্য অনুমিতই ছিল। কারণ শুরু থেকেই তিনি আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

তবে নিজেকে এখনই বিজয়ী বলতে নারাজ বাইডেন। ভোট গ্রহণ শেষে ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে দেওয়া আনুষ্ঠানিক এক ভাষণে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, ‘আমি এখানে বিজয় ঘোষণা করতে আসিনি। কিন্তু বলতে এসেছি, ভোট গণনা শেষ হলে আমার বিশ্বাস আমরাই জিতব।’

ইউএসএ টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, নেভাদা—এ তিনটি রাজ্যের ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প ও বাইডেনের ভাগ্য। বুধবার দুপুরের দিকে উইসকনসিন ও মিশিগানে জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণার পর থেকেই এ তিন অঙ্গরাজ্যের ওপর সবার চোখ।

বাইডেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোট ধরে রেখেছেন আর ট্রাম্পের ভোট ২১৪। বাইডেনের দরকার মাত্র ৬ ভোট আর ট্রাম্পের দরকার ৫৭ ভোট।

কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ট্রাম্পকে অবশ্যই পেনসিলভানিয়ায় জিততে হবে। কিন্তু তাঁর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে ডাকযোগের ভোট। অধিকাংশ ডাকযোগের ভোট বাইডেনের পক্ষে যেতে দেখা গেছে। এ অঙ্গরাজ্যে এসব ভোট ট্রাম্পকে বেকায়দায় ফেলতে পারে।

আলাস্কা (৩ ইলেক্টোরাল ভোট) ও নেভাদার (৬ ইলেক্টোরাল ভোট) ফলাফলও এখন ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলাস্কা ট্রাম্পের পক্ষে ঝুঁকে রয়েছে। নেভাদায় বাইডেন মাত্র ১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের আগে চূড়ান্ত ফল আশা করা যাচ্ছে না। নর্থ ক্যারোলাইনার ফলাফল এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু সেখানে ট্রাম্প ১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে।

বাইডেন যদি নেভাদায় জিতে যান তবে তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু ট্রাম্পের সবগুলো অঙ্গরাজ্যে জেতা ছাড়া উপায় নেই।

বাইডেন যদি জর্জিয়া বা পেনসিলভানিয়া জিততে পারেন তবে তাঁর পক্ষে আর কোনো বাধা থাকবে না। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভোট গণনা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টম ওলফ।

এদিকে ভোট গণনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে আয়োজিত নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হাজারো মানুষের নির্বাচনী শোভাযাত্রা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিশিয়াল বা চূড়ান্ত ফল এখনো আসেনি। চূড়ান্ত ফল আসতে কয়েক দিন পর্যন্ত লেগে যায়। এ বছর ব্যাপকভাবে ডাকযোগে ভোট আসায় গণনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। মূল ব্যাটল গ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনের আগে এসব ভোট গণনার অনুমতি নেই। তাই নির্বাচনের পরই এসব ভোট গণনা করতে হয়। এসব ভোট গণনায় সময় লাগে বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *