হোয়াইট হাউজের পথে ৩২ বছর দৌড়ের পর সফলতা

Spread the love

হোয়াইট হাউসের দৌড়ে ৩২ বছর পার করেছেন জো বাইডেন। সেই ১৯৮৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড় শুরু করেন এই ডেমোক্রেট। তারপর নানা কারণে তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। অবশেষে হোয়াইট হাউসের লাইসেন্স পেতে যাচ্ছেন তিনি। এ জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তিনি মার্কিন ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যবীমা বিষয়ক ওবামাকেয়ার সক্রিয় করে তা বিস্তৃত করার প্রস্তাব। আছে জ্বালানি শিল্পে ২০৩৫ সালের মধ্যে শতভাগ কার্বনমুক্ত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ধনী শ্রেণির ওপর আয়কর বৃদ্ধির প্রস্তাব রেখেছেন।
ন্যাটো ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অ্যাসল্ট অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিষয়ক সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের করোনা ইস্যুতে ব্যর্থতার অভিযোগ। ১৯৮৮ সালের পর ২০০৮ সালে তিনি আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু এবার তাকে ধোপে টিকতে দিলেন না আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বারাক ওবামা। প্রাইমারি ভোটেই তিনি ওবামার কাছে হোঁচট খেলেন। গুরুত্বপূর্ণ আইওয়া ককাসে তিনি শতকরা এক ভাগেরও কম ভোট পান। আর ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সামনে এসে হাজির হয় এক ট্র্যাজেডি। তখন তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে ভাইস প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের আগে ক্যান্সারে মারা যান তার ছেলে বিউ। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অস্বীকৃতি জানান জো বাইডেন। অবশেষে ২০২০ সাল তার কাছে সোনালী অধ্যায় হিসেবে ধরা দেয়। তিনি প্রথমদিকে প্রাইমারিতে একেবারে নিচের দিকে থাকলেও পরে চমক দেখিয়ে হটিয়ে দেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সহ প্রথম সারির ডেমোক্রেট প্রার্থীকে। আর তাতেই তার ভাগ্য খুলে যায়।

এর জন্য তাকে বেশকিছু পলিসি নির্ধারণ করতে হয়। তার মধ্যে প্রথমেই আসে ওবামাকেয়ারের কথা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পরই অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার বাতিল করে দেন। এই ওবামাকেয়ারের মাধ্যমে লাখ লাখ মার্কিনি স্বাস্থ্যসেবা পেতেন। জো বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি ওবামাকেয়ার ফিরিয়ে আনবেন আরো বৃহত্তর পরিসরে। তিনি এই ধারা এতোটাই বিস্তৃত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৭৭ ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পায়।

জো বাইডেন মার্কিনিদের আরো একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি শিল্পকে শতভাগ কার্বনমুক্ত করবেন। ক্লিন-এনার্জি অবকাঠামো তৈরিতে তিনি ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার এমন সিদ্ধান্তে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের তেলসংশ্লিষ্ট লবি খুশি হবে না। দ্বিতীয় বিতর্কে তিনি বলেছেন, তেল শিল্প থেকেই তিনি বেরিয়ে আসতে চান। একে ত্রুটিযুক্ত বলে সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তি দেন যে, এমন বক্তব্যে মুখ ফিরিয়ে নেবেন টেক্সাস ও পেনসিলভ্যানিয়ার ভোটাররা।

তৃতীয় যে পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জো বাইডেন তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদশালীদের আয়কর বৃদ্ধি করা। তিনি বলেছেন, বছরে যেসব মার্কিনি ৪ লাখ ডলারের বেশি আয় করবেন তাদের ক্ষেত্রে আয়কর বৃদ্ধি করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি খুবই সামান্য আয়কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ট্রাম্প আমলে যেসব দেশ বা সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে তা পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জো বাইডেন। তিনি ন্যাটো এবং বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পরই জলবায়ু বিষয়ক প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করেন ট্রাম্প। জো বাইডেন নির্বাচিত হলে আবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরানের সঙ্গে বারাক ওবামার করা পারমাণবিক চুক্তিতেও প্রবেশ করবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিষয়ক সংকট তীব্র হয়েছে। এ সমস্যাকে মোকাবিলা করতে অ্যাসল্ট অস্ত্র নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন জো বাইডেন। এর অধীনে অস্ত্র কেনাবেচার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হবে। অনলাইনে অস্ত্র কেনাবেচা বন্ধ করা হবে। মার্কিনিদের জন্য অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সংখ্যা সীমাবদ্ধ করার কথা বলেছেন তিনি। তিনি আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ঘৃণাপ্রসূত অপরাধে অভিযুক্ত হলে তিনি অস্ত্র নিজের কাছে রাখার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হবেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস মহামারি। এই মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেলেও এর তোয়াজ করেননি ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মুখে মাস্ক পরার ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্বই দেননি। এমনকি করোনাভাইরাস মহামারি যখন তুঙ্গে তখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমি কোনি ব্যারেটের মনোনয়ন ঘোষণার অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তিনি হোয়াইট হাউসে। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটে। তাদের বেশির ভাগের মুখেই ছিল না মাস্ক। এর পরই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ট্রাম্প। তাকে ভর্তি করা হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সামরিক হাসপাতালে। সেখানেও তিনি উদ্ভট ঘটনা ঘটিয়ে বসেন। ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি বাইরে সমবেত সমর্থকদের জন্য হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। গাড়িতে করে সংক্ষিপ্ত চক্কর দেন হাসপাতালের বাইরে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। এ সময় তার গাড়িতে ছিলেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। গাড়ির চালক। এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। এসব ইস্যুকেই সামনে তুলে ধরেন জো বাইডেন। অক্টোবরে টাউন হল ইভেন্টে জো বাইডেন বলেন, করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন কমপক্ষে দুই লাখ ১০ হাজার মানুষ। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি করছেন? তিনি কিছুই করছেন না। এমনকি তিনি নিজে মাস্ক পর্যন্ত পরেন না। পক্ষান্তরে জো বাইডেন করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার কারণে তাকে ‘স্লিপি জো’ নামে ব্যঙ্গ করেন ট্রাম্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *