নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের বাকেরগঞ্জে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে এক কন্যাশিশুর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা শিশুটিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- ওমর আল-সাঈদ (১৪), সাহাবউদ্দিন সাগর (৪০) ও মো. হেলালা চৌকিদার (২৫)। এর মধ্যে সাহাবউদ্দিন সাগর ও মো. হেলালা চৌকিদারকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রারণ করেন। অন্যজন ওমর আল সাঈদ অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার অভিভাবকের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের নীলগঞ্জ এলাকায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা শিশুর নাম জুই আক্তার (৯)। সে ওই এলাকার বশির হাওলাদারের কন্যা। স্থানীয়রা জানান, মাত্র আড়াই হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে প্রতিবেশীরা শিশুটির ওপর নির্যাতন করে।
নির্যাতিতা শিশুর বাবা বশির হাওলাদার শনিবার বিকেলে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে জুই মামার বাড়ির উঠোনে খেলছিলো। এ সময় একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সাঈদ তাকে তুলে নিয়ে একটি বাথরুমের ভেতরে আটকে রাখে। সেখানে শিশুটির হাত-পা বেঁধে তাকে নির্মমভাবে পেটায় সাঈদ, সাহাবউদ্দিন ও হেলালা। এক পর্যায়ে তার মুখে গামছা বেঁধে নাকে-মুখে পানি ঢেলে মোবাইল ফোন চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করে তারা। শিশুটির স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে তারা শ্লীলতাহানীও করে।
তিনি বলেন, অসুস্থাবস্থায় তার শিশুকন্যাকে ওই দিনই বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। বাকি একজনকে উপজেলা প্রমোশন অফিসারে উপস্থিতে পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশু জুইকে নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা বশির হাওলাদার বাদি হয়ে গত শুক্রবার অভিযুক্ত সাইল সহ ৫ জনকে আসামী করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ৩জনকে গ্রেফতার করে।
